October 30, 2026, 11:39 pm
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

ফকিরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার

সৈয়দ জালিস মাহমুদ, বার্তা সম্পাদক

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত দশ দিনে জটিল উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। মারা গেছেন এক নারী।

উন্নত চিকিৎসা না থাকায় অনেক রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, কিন্তু টেস্টের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে। নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী জ্বর ও ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভিড় করছেন। পাশাপাশি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কেউ কেউ আবার বাগেরহাট বা খুলনায় গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ সুকুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গত ১৫ দিনে আউটডোরে ৫ হাজার ৬২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, গায়ে ব্যথা ও কাশিতে ভুগছেন। তিনি বলেন, “রোগীরা টেস্টে অনীহা দেখানোয় প্রকৃত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। সবাই পরীক্ষা করালে শনাক্তের সংখ্যা আরও বেশি হতো।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আরএমও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন জ্বর ও ব্যথার রোগী আসে। গুরুতরদের ভর্তি রাখা হয়, বাকিরা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা সবাইকে নিয়মিত প্লাটিলেট চেক করতে ও জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে আসতে বলছি।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে কেবল ডেঙ্গু শনাক্তের সাধারণ টেস্ট হয়। প্লাটিলেট কাউন্টসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে। এতে রোগীর খরচ ও দুর্ভোগ বেড়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি বেল্লাল হোসেন, সালমা বেগম ও শেখ আজিজুল বলেন, তাদের পরিবারের প্রায় সবাই জ্বরে আক্রান্ত। পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়লে তারা হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিকে জানা গেছে পাইকপাড়া গ্রামে ডেংগু রোগীর অধিক্ষ দেখা গেছে।

এদিকে বাজারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে নাপা, প্যারাসিটামল ও স্যালাইন জাতীয় ওষুধের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, “সেপ্টেম্বর থেকে ফকিরহাটে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ