চাকরি মেলায় কর্মসংস্থান হলো ৯০ বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তার, বাগেরহাটকে এগিয়ে নিতে আত্মবিশ্বাসী প্রশিক্ষিত এই মেয়েরা।
বাগেরহাটে স্বামী পরিত্যাক্তা সনিয়া আক্তার ও ফারজানা আক্তার চাকরির মেলায় এসে চাকুরী পেয়ে আবেগ আর ধরে রাখতে পারলেন না, যেখানে টাকার অভাবে স্বামীকে বেঁধে রাখতে পারলো না, সনিয়া ও ফারজানা। সেখানে আজ এই মেলা তাদের অভাব ঘুচিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলো। নেই শুধু স্বামী নামক পুরুষটি। এই দুঃখ আর শোককে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চান তারা।

বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনব্যাপী এই চাকরি মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান। নারীর ক্ষমতায়নে বাগেরহাট স্বাধীনতা উদ্যানে অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রোগ্রাম (ALP) এর চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৯০ জন কিশোরীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) আয়োজিত এ মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শুবেন্দু ঘোষ, ইউনিসেফের শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলাম।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, নারীর দক্ষতা উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক নয়। সামাজিক পরিবর্তনেরও বড় হাতিয়ার। এ ধরণের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে। শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মেয়েরা সমাজে এগিয়ে যেতে পারবে। আজকের এই নিয়োগপত্র তাদের আত্মনির্ভরশীলতার পথে নতুন অধ্যায়।
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলাম বলেন, এই চাকরি মেলা কেবল নিয়োগপত্র নয়, এটি বাগেরহাটের সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক। প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরাও যেন এমন সুযোগ পায়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি এই কর্মজীবী মেয়েরাই।
স্বামী পরিত্যক্তা শামীমা আক্তার বলেন, স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আজ চাকরির সুযোগ পেয়ে আমি শুধু নিজের নয় আমার ভবিষ্যৎও গড়তে পারব।