July 25, 2026, 5:00 pm
শিরনাম :
মাদার নদীর বাঁশের স্যাকোটি ব্রীজ করার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কবিরহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ রাজপাড়া থানা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার

ফকিরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার

সৈয়দ জালিস মাহমুদ, বার্তা সম্পাদক

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত দশ দিনে জটিল উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। মারা গেছেন এক নারী।

উন্নত চিকিৎসা না থাকায় অনেক রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, কিন্তু টেস্টের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে। নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী জ্বর ও ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভিড় করছেন। পাশাপাশি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কেউ কেউ আবার বাগেরহাট বা খুলনায় গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ সুকুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গত ১৫ দিনে আউটডোরে ৫ হাজার ৬২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, গায়ে ব্যথা ও কাশিতে ভুগছেন। তিনি বলেন, “রোগীরা টেস্টে অনীহা দেখানোয় প্রকৃত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। সবাই পরীক্ষা করালে শনাক্তের সংখ্যা আরও বেশি হতো।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আরএমও ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন জ্বর ও ব্যথার রোগী আসে। গুরুতরদের ভর্তি রাখা হয়, বাকিরা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা সবাইকে নিয়মিত প্লাটিলেট চেক করতে ও জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে আসতে বলছি।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে কেবল ডেঙ্গু শনাক্তের সাধারণ টেস্ট হয়। প্লাটিলেট কাউন্টসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে। এতে রোগীর খরচ ও দুর্ভোগ বেড়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি বেল্লাল হোসেন, সালমা বেগম ও শেখ আজিজুল বলেন, তাদের পরিবারের প্রায় সবাই জ্বরে আক্রান্ত। পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়লে তারা হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিকে জানা গেছে পাইকপাড়া গ্রামে ডেংগু রোগীর অধিক্ষ দেখা গেছে।

এদিকে বাজারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে নাপা, প্যারাসিটামল ও স্যালাইন জাতীয় ওষুধের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, “সেপ্টেম্বর থেকে ফকিরহাটে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ