এখনো উদ্ধার হয়নি চট্রগ্রামের বাঁশখালীর পুঁইছড়ি প্রেম বাজার থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোঃ এহেসান প্রকাশ হাসান (৩৮), পেরিয়ে গেছে ৪২ ঘন্টা। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ থাকা ওই ব্যবসায়ী।
গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত ৮ টার দিকে হাসানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয় দিয়ে মো. এহেসান প্রকাশ হাসানকে তার ব্যবসা প্রতিষ্টান প্রেম বাজারের মেসার্স আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় থেকে হাসানের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বজনরা জানিয়েছেন রবিবার দুপুর থেকে বিকাল ২ টা পর্যন্ত আইপিও নাম্বার থেকে হঠাৎ ফোন আসে। এসময় হাসানকে জিম্মীদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলে নগদ টাকার দফারফা করছিল। তারাও টাকা দিতে সম্মত হন। কিন্তু ওই চক্রের সদস্যরা তাদের দেওয়া স্থানে পর্বতীতে পৌঁছেনি।
স্পেশাল রেন্সপন্স ব্যাটেলিয়ান (এস আর বি) ৭ চট্টগ্রামর সহকারী পরিচালক ( মিডিয়া) মোসলেহউদ্দিন আহমদ জানান ওইদিন প্রেম বাজারে এসআরবি অভিযান পরিচালা করেনি। এটি এসআরবি সংশ্লিষ্ট অভিযান নন। এসআরবি পরিচয় বহন কারীরা ভুঁয়া। এব্যপারে অনুসন্ধান চলছে । সফলকাম হওয়া গেলে গণমাধ্যমকে আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে অবহিত করবো।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টা ২০ মিনিটে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজার থেকে ব্যবসায়ী হাসানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিখোঁজ মো. এহেসান প্রকাশ হাসান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম পুঁইছড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। হাসান ১২ বছর আফ্রিকার মোজাম্বিকে ছিলেন।
তারা তিনভাই থাকতেন সেদেশে। ২ বছর আগে দেশে আসেন তিনি। সেসময় থেকে তিনি দেশে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে প্রেমবাজারে হার্ডওয়্যরের ব্যবসা শুরু করেন হাসান। তারা ৫ ভাইবোন। হাসানের আছে আবদুল্লাহ ও আকলিমা নামের ছেলে মেয়ে।
হাসানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজে কর্মরত ম্যানেজার মোজাফফর আহমদ বলেন রাত ৮টা ২০ মিনিটে দুই জন দোকানে ঢুকে। তারা ৪ জন অপর দুইজন সিএনজিতে থাকে। ইউনিফর্ম ও মাস্ক পরা ছিল। হঠাৎ হাসানকে হাতকড়া পরিয়ে সিএনজি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। প্রশাসন মনে করেছি। আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু ভয়ে কিছু বলার সাহস করিনি। পোশাকে এসআরবির লোগো লাগানো ছিল। অপহরণকারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অপহৃতকে নাপোড়া থেকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং হাজী বাজারের দিকে নিয়ে যান।
স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন আমরা চরম শংকিত। তিনি কোথায় আছেন ও কোন অবস্থায় আছেন জানিনা। আমি আমার স্বামীকে অক্ষতবস্হায় ফেরত চাই। মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ও নিখোঁজের বড় ভাই হোসাইন বলেন, “আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি যে, এসআরবি পরিচয়ে যারা এহসানকে নিয়ে গেছে, তারা প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নন। কারা এবং কী কারণে তাকে তুলে নিয়ে গেছে, তা এখনো আমাদের জানা নেই। আমরা তাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়। স্পর্শকাতর বিষয় এটি। পুলিশের একাধিক দল সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধানে রয়েছে।