October 30, 2026, 9:06 pm
শিরনাম :
কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর চুয়াডাঙ্গায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে যুবদলের শুভেচ্ছা বিনিময়

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে মাভাবিপ্রবির হৃদয়

ইসরাত জাহান আশা, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম হৃদয় জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে উপপ্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন।

সম্প্রতি দুই বছর মেয়াদি জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সংগঠনটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসীর চৌধুরীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করা হয়।

এর আগে হৃদয় মাভাবিপ্রবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্যাম্পাস পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পর এবার কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পেলেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া হৃদয় আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন বলে তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তাঁর বুক, পিঠ ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। ২০২৫ সালের জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাভাবিপ্রবিতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও বক্তব্য দেন।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আশরাফুল আলম হৃদয় বলেন, ‘জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া আমার কাছে কেবল কোনো দলীয় পদ বা পদবি নয়; এটি রাজপথে রক্ত দেওয়া এবং হাজারো শহীদের ত্যাগের প্রতি এক পরম দায়বদ্ধতা।’

তিনি বলেন, ‘বোধ হওয়ার পর থেকেই এ দেশের নোংরা রাজনীতিকে আমি মনে-প্রাণে ঘৃণা করতাম। আমার কাছে “পলিটিক্স” মানেই ছিল পেশিশক্তি, অন্যায্য বলপ্রয়োগ, সম্পদ আত্মসাৎ, জুনিয়রদের ওপর “ম্যানার”-এর নামে নির্যাতন, গেস্টরুম কালচার, ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে সালাম দেওয়ার সংস্কৃতি, টেন্ডারবাজি এবং মাদকের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং তৈরির অপচেষ্টা। ছাত্ররাজনীতি মানেই ছিল দল বা নেতার নামে শোডাউন দেওয়া এবং নেশার আসর বসানো।’

হৃদয়ের ভাষ্য, ‘২৪-এর জুলাইয়ের রক্তাক্ত অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার অসামান্য ত্যাগ আমার এই গণবিদ্বেষ ও চিন্তাজগতকে আমূল বদলে দিয়েছে। সেই জায়গা থেকে ছাত্রশক্তিতে দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য এক মহান আমানত।’

মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে তাঁর সংগঠনের লক্ষ্য সম্পর্কে হৃদয় বলেন, ‘মাভাবিপ্রবিতে অধিকার ও মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা মাভাবিপ্রবি ছাত্রশক্তির মূল লক্ষ্য। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক গেস্টরুম কালচার ও রাজনীতির নামে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা চিরতরে নির্মূল করে একটি প্রগতিশীল, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাস রাজনীতি হবে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে। আমি বিশ্বাস করি, অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাজনীতির নামে রাস্তা আটকে শোডাউন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনো রাজনীতি হতে পারে না। জনগণের তুষ্টি ও সেবাই হবে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।’

হৃদয় বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির নামে আমরা দেখে আসছি দেশের বোঝা তৈরি করা হয়। কিন্তু আমরা “ইন্টেলেকচুয়াল পলিটিক্স”-এর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এমন তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করতে চাই, যারা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার প্রেরণা সম্পর্কে হৃদয় বলেন, ‘৭১ বা ৯০-এর পরিবর্তনের পরও এ দেশের শোষিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি, কেবল শোষকের মুখ বদলেছে। এই দীর্ঘদিনের জঘন্য শাসনতন্ত্র ও বৈষম্যের শিকল ভাঙার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই ছিল জুলাইয়ে রাজপথে নামার মূল প্রেরণা।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের শুরু থেকেই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি সাধ্য অনুযায়ী। ৪ আগস্ট পুলিশের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হই। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল-এমন একটি বাংলাদেশ গড়া, যেখানে ভয়হীন বাকস্বাধীনতা থাকবে, সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং ইনসাফভিত্তিক এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠিত হবে।’

জাতীয় ছাত্রশক্তির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে হৃদয় বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর গতানুগতিক রাজনৈতিক দলগুলো যখন ছাত্র-জনতার ত্যাগ ও রক্তকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করেছে, তখন আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের হাত ধরেই জাতীয় ছাত্রশক্তির জন্ম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নীতিবান ও স্বপ্নবাজ মানুষরা রাজনীতিতে না এলে দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। জাতীয় ছাত্রশক্তি কোনো গতানুগতিক বা লেজুড়বৃত্তিক সংগঠন নয়। এটি ২৪-এর প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলা এবং একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণেই আমি জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।’

উল্লেখ্য, তৃণমূলের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ায় হৃদয়ের সাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। নতুন দায়িত্বে তিনি সংগঠনটির প্রেস ও মিডিয়া কার্যক্রমে কাজ করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ