October 31, 2026, 2:33 am
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

একের পর এক নিখোঁজ ও মৃত্যু মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে মহাকাশ ও পারমাণবিক গবেষণা এবং উচ্চমাত্রার গোপন তথ্যের অ্যাক্সেস থাকা বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে অবশেষে সরাসরি মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন শিগগিরই এ রহস্যের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

খবরে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন ব্যক্তি মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এসব বিজ্ঞানীর বেশিরভাগই মহাকাশ ও পারমাণবিক বিজ্ঞান গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনা অস্পষ্ট বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ঘটেছে।

ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নাকি কাকতালীয়— এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি আশা করি এটি কাকতালীয়, তবে আমরা আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারব। আমি এই বিষয়েই একটি বৈঠক থেকে এলাম।

বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন এবং আমরা শিগগিরই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানীদের বিষয়ে আমরা সম্ভবত আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি ভালো উত্তর পেয়ে যাব।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে নিখোঁজ ব্যক্তিরা মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তি এবং ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে এসব ঘটনার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সংগঠিত সংযোগ নেই।

এসব রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি এখনও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলিনি। তবে আমি অবশ্যই তা করব এবং আপনাকে জানাব।

তিনি আরও বলেন, যদি বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে এটি অবশ্যই এমন কিছু, যা সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

এ বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, প্রতিটি ঘটনাই রহস্যজনক এবং আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে এগুলো কোনো বড় ধরনের সমন্বিত ষড়যন্ত্রের প্রমাণ দেয়— এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে আমি মনে করি না। প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। তাই একে সমন্বিত কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকা উচিত।

এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তথা লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন, উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। ফলে এসব উচ্চ-নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি গুপ্তচরবৃত্তি, নিরাপত্তা ভঙ্গ বা অন্য কোনো হুমকির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, নিখোঁজ অনেক বিজ্ঞানী ঘর থেকে হেঁটে বের হয়েছিলেন এবং তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও চাবির মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়িতেই রেখে গেছেন। শুধু নিখোঁজই নয়, কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী আকস্মিকভাবে বা সহিংস পরিস্থিতিতে মারা গেছেন বলেও জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাদের কাছে গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে, তারা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকার বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তি বা টার্গেট করে অপহরণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ