October 31, 2026, 1:57 am
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

বাগেরহাটের রাইসা পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে কোটি টাকার স্কলারশিপ

সৈয়দ জালিস মাহমুদ

যুক্তরাষ্ট্রে কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন বাগেরহাটের রাইসা

আমেরিকার নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ‘সেন্ট জনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-তে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘রেড স্টর্ম স্কলার্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেধাবী তরুণী রাইসা জাহিন। মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ রাইসা তিন বছর মেয়াদী এই কোর্সে প্রতি বছর ৩০ হাজার ডলার করে মোট ৯০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা) বৃত্তি পাবেন। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার বেশরগাতি গ্রামে।

সেন্ট জনস ল স্কুলের অ্যাডমিশন ডিন ট্রেন্ট অ্যান্ডারসনের পাঠানো এক চিঠিতে রাইসাকে মনোনীত করার কারণ হিসেবে তার অসামান্য মেধা ও যোগ্যতার প্রশংসা করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আপনার অসামান্য কৃতিত্বের রেকর্ড, আমাদের লক্ষ্যের সাথে আপনার একাত্মতা এবং আইন পেশায় সফল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনার স্বীকৃতিস্বরূপ আপনাকে এই সম্মানজনক স্কলারশিপ প্রদান করা হলো।” মূলত একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামগ্রিক মূল্যায়নের (Holistic Review) ভিত্তিতেই তাকে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য মনে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

‘রেড স্টর্ম স্কলার্স প্রোগ্রাম’ যুক্তরাষ্ট্রের আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি সুযোগ। এই প্রোগ্রামের আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ‘এল-স্যাট’ (LSAT) বা ‘জিআরই’ (GRE) পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ল স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। তবে শর্ত হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে অন্তত ৩.৭ সিজিপিএ (GPA) বজায় রাখতে হয়, যা রাইসা সফলভাবে অর্জন করেছেন।

মাত্র ২০ বছর বয়সেই রাইসা তার একাডেমিক এবং নেতৃত্বের গুণাবলির জন্য নিউ ইয়র্কে পরিচিতি পান। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিনেটর’ এবং ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় জুলাই আন্দোলনে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়তে নেতৃত্ব দেন।

রাইসার শেকড় বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার বেশরগাতি গ্রামে। তিনি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রফিকুল ইসলামের কন্যা। রাইসার এই সাফল্যে তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তার চাচা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু তার ভাতিজির এই বিশ্বজয়ী সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

রাইসার এই মেধার মূলে রয়েছে পারিবারিক অনুপ্রেরণা। তার দাদা মরহুম লতিফর রহমান ছিলেন বাগেরহাট অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় নিবেদিত এক প্রাণপুরুষ। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করতেন এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতেন। এই মহৎ কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয়রা তাঁকে ‘বাগেরহাটের বাতিঘর’ বলে ডাকতেন।

বর্তমানে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রাইসা আগামী ১১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে তার নতুন শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু করবেন। ভবিষ্যতে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করতে চান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ