October 31, 2026, 12:45 am
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

কয়রায় প্রায় ছয়’শ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে নয় গম্বুজ মসজিদ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপত্য। নাম তার ‘মসজিদকুড়’। পোড়ামাটির পাতলা ইট আর চুন-সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত নয় গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি প্রায় ছয় শ’ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও অম্লান।

উপজেলার নাম অনেকের কাছে অপরিচিত হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে ‘মসজিদকুড়’ এক অতি পরিচিত নাম। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন এই প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেখতে।

নয় গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকার এই মসজিদটি প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতœতাত্ত্বিক পরিমাপে এর প্রতিটি পাশের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৭৬ মিটার এবং ভেতরের অংশের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ১৯ মিটার। মসজিদের ভেতরে চারটি ইটের তৈরি স্তম্ভ আছে, যেগুলোর প্রতিটিতে দুটি করে পাথর বসানো। এই স্তম্ভগুলো মসজিদের ভেতরের অংশকে নয়টি সমবর্গক্ষেত্রে ভাগ করেছে, যার ওপরের অংশ গম্বুজ দিয়ে আচ্ছাদিত। কিবলামুখী দেয়ালে রয়েছে একটি চমৎকার অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব।

মসজিদকুড় গ্রামের বাসিন্দা আবু তায়েব সানা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ছোটবেলায় এই মসজিদে আমরা আরবি পড়তে আসতাম। এই মসজিদের নামেই আমাদের গ্রামের নাম। একসময় মানুষ এখানে মানত করে হাঁস-মুরগি বা ছাগল ছেড়ে দিত, তবে এখন তা বন্ধ।” তিনি আরও জানান, প্রচ- গরমেও মসজিদের ভেতরটা আশ্চর্যরকম শীতল থাকে।

মসজিদটিতে কোনো শিলালিপি না থাকায় এর সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যরীতির সঙ্গে এর গভীর সাদৃশ্য থাকায় ধারণা করা হয়, এটি হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর সময়েই নির্মিত।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৪১৮ থেকে ১৪৩৩ সাল পর্যন্ত বাংলার সুলতান ছিলেন জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ। ধারণা করা হয়, সেই সময়ে খানজাহান আলী (রহ.) যশোরের মুড়লী পর্যন্ত এসে তাঁর কাফেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। তাঁর এক সহচর বোরহান খাঁ ওরফে বুড়া খাঁ ও তাঁর ছেলে ফতে খাঁর নেতৃত্বে একটি দল সুন্দরবন সংলগ্ন এই আমাদী এলাকায় আস্তানা গেড়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, তাঁদের উদ্যোগেই ১৪৪৫ সালের দিকে মসজিদকুড় মসজিদটি নির্মিত হয়।

বর্তমানে মসজিদটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে রয়েছে। মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বিগত দুই বছর ধরে আমি এখানে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছি। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এটি দেখতে ভিড় করেন।”

রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। কপোতাক্ষ নদের পাড়ে শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন শৈলী পর্যটকদের আজও মুগ্ধ করে চলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ