October 30, 2026, 10:29 pm
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

লামায় পাহাড় কাটার অভিযোগে ৫ ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে মামলা

মো. ইসমাইলুল করিম, বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মামলা প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান।

সরেজমিনে তদন্তের প্রথম দিনেই পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার পর এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ১০ সেপ্টেম্বর ফাইতং এলাকায় ইটভাটা মালিকদের পাহাড় কাটার স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় পাঁচটি ব্রিকফিল্ডের মাধ্যমে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিবেদককে বলেন, পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, ‘ফাইতং এলাকায় ইটভাটার মালিক কর্তৃক পাহাড় কর্তনের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে পাঁচটি ব্রিকফিল্ড কর্তৃক পাহাড় কর্তনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

নুর হাসান আরও বলেন, লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশনার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখনো ওই আদেশের কপি তাদের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছেনি। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী (এমপি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান ও পরিদর্শনের অগ্রগতি সচিত্র প্রতিবেদন মন্ত্রীকে অবহিত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন এবং তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

রিটের শুনানিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংসের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটার মালিকরা পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আদালতের রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যক্তি বা কোনো মহলই আইনি ব্যবস্থা থেকে ছাড় পাবে না এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ