October 30, 2026, 9:50 pm
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

শতাব্দী পর সৌদির মরুভূমিতে ফিরল বিলুপ্তপ্রায় ওনাগার

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো পারস্যের বিলুপ্তপ্রায় ওনাগার বা এশীয় বন্য গাধার এক শাবকের জন্ম হয়েছে।

দেশটির স্থানীয় বিলুপ্ত প্রজাতি পুনরুদ্ধার এবং আরব উপদ্বীপের প্রাচীন পরিবেশব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার চলমান উদ্যোগে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন পরিবেশবিদেরা। সম্প্রতি আরব নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানান যায়।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু জালুমিস আরব নিউজকে জানিয়েছেন, ‘১ হাজার বছরেরও বেশি আগের আরব কবিদের কবিতায় যে অদম্য বন্য প্রাণীর বর্ণনা পাওয়া যেত, প্রায় ১০০ বছর পর সেই প্রাণী আমাদের মরুভূমিতে ফিরে এসেছে। এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি নতুন প্রাণীর আগমন নয়; এটি প্রকৃতি ও জীবনের অদম্য স্বাধীনতার এক বড় প্রতীক।’

রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ প্রকল্পের আওতায় এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে জর্ডানের শওমারি ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সাতটি ওনাগার সৌদি আরবে আনা হয়। প্রায় ১১ মাস গর্ভধারণের পর ২০২৫ সালের জুনে জন্ম নেয় পুরুষ ওনাগার শাবকটি। সাধারণত জন্মের প্রথম বছরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এক বছর সফলভাবে পার করার পর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুসংবাদ প্রকাশ করা হয়।

পারস্য ওনাগার মূলত ইকুয়াস হেমিওনাস প্রজাতিভুক্ত অত্যন্ত প্রাচীন প্রাণী। বর্তমানে বিশ্বে মাত্র ৬০০টিরও কম পারস্য ওনাগার টিকে থাকায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এদেরকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে এ প্রজাতির সংখ্যা ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে বিশ শতকের শুরুর দিকে অতিরিক্ত শিকার ও আবাসস্থল হারিয়ে একই গোত্রের সিরীয় ওনাগার পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সংরক্ষণবাদীরা জানান, ওনাগারের বংশবৃদ্ধি কেবল একক কোনো প্রাণীর বৃদ্ধি নয়; এটি ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ পুনরুজ্জীবনের প্রত্যক্ষ সূচক। এর মাধ্যমে পুরো রয়্যাল রিজার্ভ এলাকার উন্মুক্ত প্রান্তর ও স্থানীয় উদ্ভিদরাজি তাদের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরে পাচ্ছে।

বর্তমানে এই পালে পাঁচটি স্ত্রী ও তিনটি পুরুষ ওনাগার সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছে, যার মধ্যে দুটি স্ত্রী ওনাগার ফের গর্ভবতী। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবের স্থলভাগের ৩০ শতাংশ প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে আরবীয় চিতাবাঘ ও সিংহের মতো হারিয়ে যাওয়া প্রধান শিকারি প্রাণীদেরও স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ