October 31, 2026, 3:14 am
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

মুন্সীগঞ্জে প্রাক্তন মন্ত্রী এম শামসুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রাক্তন মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক এম শামসুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২৬ এপ্রিল মিরকাদিম পৌর বিএনপির আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে স্মরণ করেন।

১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের তিন সিড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণকরেন।

এম শামসুল ইসলাম দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের সেবা করে গেছেন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে। তিনি ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদকে হারায়।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ (গজারিয়া-সদর) আসন থেকে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মন্ত্রিত্ব জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য ও তথ্য মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতি নির্ধারণে প্রজ্ঞা এবং দায়িত্বশীলতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।

এছাড়াও, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর দক্ষতা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী এম শামসুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কূটনীতিক, আইনজীবী, ইতিহাসবিদ, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের কল্যাণকেন্দ্রিক। তিনি সবসময় সৎ, পরিচ্ছন্ন ও আদর্শবান রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ জেলার শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে, যা আজও এলাকাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ও আন্তরিকতা তাঁকে একজন জনপ্রিয় জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “তিনি শুধু একজন সফল রাজনীতিবিদই নন, আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় অভিভাবক ও পরিবারের গর্ব ছিলেন। তাঁর আদর্শ, সততা ও দেশপ্রেম আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে।”

তাঁদের মতে, তিনি আজ শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর কর্ম, অবদান ও স্মৃতি চিরকাল সবার হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।

এদিন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করেন।

প্রয়াত এই জননেতার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ