September 15, 2026, 12:35 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

শিক্ষা, নেতৃত্ব ও মানবকল্যাণে বহুমাত্রিক কর্মযাত্রা

সৈয়দ জালিস মাহমুদ, বার্তা সম্পাদক।

শিক্ষা, নেতৃত্ব ও মানবকল্যাণে বহুমাত্রিক কর্মযাত্রা

অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুলের দেশে-প্রবাসে দীর্ঘ পথচলা
শিক্ষা বিস্তার, নেতৃত্ব, সমাজসেবা ও কমিউনিটি উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুল। বাংলাদেশের বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সৌদি আরব হয়ে বর্তমানে কানাডায় তাঁর কর্মজীবনের বিস্তৃতি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, শিক্ষক সংগঠনে নেতৃত্ব, প্রবাসী কমিউনিটির সেবা এবং কানাডার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে বহুমাত্রিক কর্মপরিসরে যুক্ত রেখেছেন।

ছাত্রজীবনেই নেতৃত্বের সূচনা

অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুলের নেতৃত্বের সূচনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে। ১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষে তিনি মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রদলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবনের এই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তাঁর পেশাগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা বিস্তারে উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে নিজ এলাকা বাগেরহাটের ফকিরহাটের টাউন নওয়াপাড়ায় ফিরে তিনি শিক্ষা বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া খান জাহান আলী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও শহীদ স্মৃতি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তিনি যুক্ত হন। ১৯৯৫ সালে মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠা করেন আমেনা বেগম স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেন আমেনা বেগম স্মৃতি ফাউন্ডেশন, যার মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে তাঁর ভূমিকার কথাও উঠে আসে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহু শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে জানা যায়।

শিক্ষক সংগঠনে নেতৃত্ব

শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের পেশাগত অধিকার ও উন্নয়নেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বাগেরহাট জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক কর্মজীবন

শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন অধ্যক্ষ মুকুল। ২০০০-২০০১ সালে উচ্চশিক্ষা ও অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করেন। ২০০৩ সালে ভারত সরকারের একটি স্কলারশিপের মাধ্যমে নয়াদিল্লিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এতে তাঁর শিক্ষা প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মঅভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।

কানাডায় নতুন অধ্যায়

২০১০ সালে পরিবারসহ কানাডার টরন্টোতে পাড়ি জমান অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুল। প্রবাস জীবনে ব্যবসা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগেও যুক্ত হন তিনি।

কানাডায় তিনি Bangladesh Funeral Service প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাসীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়োজনকে প্রাতিষ্ঠানিক সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ হিসেবে এটি উল্লেখযোগ্য।

রাজনীতি ও কমিউনিটি নেতৃত্ব

কানাডায় তাঁর কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতৃত্ব। তিনি Scarborough Southwest-এ লিবারেল পার্টির সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৩ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালেও পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-কানাডিয়ান কমিউনিটির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট

প্রবাসে বসবাস করলেও নিজের জন্মভূমি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছেন অধ্যক্ষ মুকুল। বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, শিক্ষক সংগঠনে নেতৃত্ব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে কাজের সূচনা করেছিলেন, প্রবাস জীবনেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

তাঁর কর্মজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়—শিক্ষা, নেতৃত্ব, সমাজসেবা, ব্যবসা ও কমিউনিটি উন্নয়নকে তিনি একই ধারায় এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের বাগেরহাট থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সৌদি আরব এবং কানাডা—বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তাঁর কর্মপরিধিকে করেছে বিস্তৃত।

পরিবার ও ব্যক্তিজীবন

অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুল দুই সন্তানের জনক। তাঁর কন্যা ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করে বর্তমানে পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত। তাঁর ছেলে ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইভি বিজনেস স্কুলে অধ্যয়ন করছেন।

তাঁর সহধর্মিণী মাহমুদা নাসরিন কানাডায় সোশ্যাল ওয়ার্ক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

সামনে আরও কাজের প্রত্যাশা

অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুলের কর্মজীবন শিক্ষা, নেতৃত্ব ও মানবকল্যাণকে ঘিরে দীর্ঘ এক পথচলার প্রতিচ্ছবি। দেশে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রবাসেও কমিউনিটি সেবা ও নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন তিনি।

দেশ ও প্রবাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে শিক্ষা, সমাজসেবা ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ান কমিউনিটির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ