October 31, 2026, 4:35 pm
শিরনাম :
মাভাবিপ্রবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা বাগেরহাটে ষাটগম্বুজ ও কাড়াপাড়া ইউনিয়ন নাগরিক কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফকিরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না –ডা. শফিকুর রহমান খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস

রাজাপুর বাজার ব্রীজ নির্মাণের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকাই জলে, সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না ব্রীজ, ৩ বছর ধরে ভোগান্তি

মো. আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের (পুরাতন বাজার) তরকারি বাজার সংলগ্ন খালের ওপর ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয় ২০২৩ সালের জুনে এরপর প্রায় ৩ বছর অতিবাহিত হলেও সেতুর দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কোনো উপকারে আসছে না জনগণের। বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ হাজারো মানুষকে যাতায়াতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে সেতু নির্মাণের পরও যাতায়াতে দুর্ভোগ কাটেনি এলাকাবাসীর।

বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, সেতু নির্মাণ হওয়ায় তাদের আশা ছিল ভোগান্তি দূর হবে। কিন্তু এখন উল্টো তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। মাটির রাস্তা দিয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে অনেক সময় শিশুরা ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ কারো সাহায্য ছাড়া সেতুতে উঠতে পারছে না। আবার কারো সাহায্য নিয়ে পার হতেও খুব কষ্ট হয়। সেতুর দুই পাড়েই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অফিস।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেড় কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। ফলে কাঁচাবাজারে মালামাল নিয়ে অনেক দূরের পথ ঘুরে কষ্ট করে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। খালটির উভয় পাশে রয়েছে পিচঢালা পাকা রাস্তা কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ক্রেতারা বাজার করে রিকশা বা ভ্যানে চড়ে বাড়ি যেতে পারছেন না। চলাচলের যোগ্য পুরাতন সেতু ভেঙে ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের শুরু থেকে প্রায় দুই বছর ধরে এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় ভুক্তভোগী শিক্ষক ছগির মৃধা বলেন, সেতুটির দক্ষিণ পাড়ে কাঁচাবাজারসহ উভয় পাড়ে স্থায়ী মার্কেট থাকায় এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেতুটি পারাপার হচ্ছেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

বাজারে আসা উপজেলা সদরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, সেতু নির্মাণের দুই বছর পার হলেও এখনো তৈরি হয়নি সেতুর দু’পাশে চলাচলের রাস্তা। এতে সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন না দুই পারের কয়েক হাজার মানুষ।

ভ্যানচালক জমির উদ্দীন বলেন, এ রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করতে খুবই কষ্ট হয়। এত টাকার সেতু এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

এ বিষয়ে সেতুটির ঠিকাদার রেজাউল করীম আ’লীগ ক্ষমতায়থাকা কালিন বলেছিলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর ডিজাইনের প্রয়োজন রয়েছে। ডিজাইন পেলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এরপর থেকে ঠিকাদার আত্মগোপনে।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার একের পর এক নগদ ওয়াদা দিলেও সেতুটির সংযোগ সড়কে এক টুকরো মাটিও পরেনি। কিন্তু তিনি একই কথা জানান, শিগগিরই নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ