মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেয়েছেন ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থী।
গবেষণা ও উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ অনুষ্ঠানে তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোকাদ্দেস আলী ও অধ্যাপক ড. মো. দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া; রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবু রাশেদ; পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাসেদুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মো. সিরাজ উদ দৌলা শামীম ও সহকারী অধ্যাপক আফিয়া আক্তার পিয়া।
প্রকৌশল অনুষদ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান ও অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির; ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান; টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার, অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান এবং প্রভাষক মো. তারেক রহমান।
জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে পুরস্কার পেয়েছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. কে এম কাদেরী কিবরিয়া, অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক শাহিন মাহমুদ ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু জাফর শিবলী; এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তন্ময় রায় তুষার; বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মামুন; ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান মোঘল এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নান্নুর রহমান। এ ছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আল আমিন আল আব্বাসী এ পুরস্কার পেয়েছেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার মো. তারেক রহমান বলেন, এ স্বীকৃতি তাঁর কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত থাকার অনুপ্রেরণা। একজন শিক্ষক হিসেবে জ্ঞানচর্চা, নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি এবং সেই জ্ঞানকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, গবেষণা কেবল প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি হয়। বিশেষ করে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো শিল্পসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই উপকরণ ও উদ্ভাবনী প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশের শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
নিজের অর্জনের পেছনে নিরলস পরিশ্রম, গবেষণার প্রতি আগ্রহ, প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা এবং শিক্ষক, সহকর্মী ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একজন অপেক্ষাকৃত নবীন শিক্ষক হিসেবে এ স্বীকৃতিকে আনন্দ, গর্ব ও দায়িত্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও মানসম্মত গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য অবদান রাখতে চান।
পুরস্কারের মানদণ্ড সম্পর্কে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অন্তত ১ হাজার ৫০০ সাইটেশন অথবা ১০টি Q1-মানের গবেষণা প্রকাশনার শর্ত ছিল। তাঁর সাইটেশন সংখ্যা ১ হাজার ৪১১ হলেও Q1-মানের প্রকাশনা রয়েছে ১৬টি। ফলে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশনার সংখ্যার শর্ত পূরণের ভিত্তিতে তিনি এ স্বীকৃতি পেয়েছেন।