July 25, 2026, 7:53 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

পাবনা বিটিসিএল অফিসে অনিয়ম–অবহেলা

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা প্রতিনিধি

চাহিদা নেই দাবি করলেও কোটি টাকার সরকারি ব্যয়; সেবায় ভোগান্তি, পুনর্গঠনের দাবি
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)–এর পাবনা জেলা অফিস কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অফিসে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকেন না, নতুন সংযোগে অনিহা, বিল জটিলতা আর লাইনের ত্রুটিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহক। অফিসে যোগাযোগ করতে গেলে অনেক সময় দেখা যায়, কর্মকর্তারা ‘বাইরে’ বা ‘মিটিংয়ে’— এমন অজুহাতে এড়িয়ে যান সেবা প্রার্থীদের।
গ্রাহক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিটিসিএল অফিসে তথ্য নিতে গেলে কর্মকর্তারা তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করেন। অনেক সময় বলা হয়— “এখন বিটিসিএলের চাহিদা নাই, তাই কাজও নাই।” তবে প্রশ্ন উঠেছে, চাহিদা না থাকলে এত অফিস, কর্মকর্তা, গাড়ি, বেতন–ভাতা ও বাজেট কেন?
ইন্টারনেট বা ল্যান্ডফোন বিকল হলে মেরামতে লাগে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। অভিযোগ করেও সমাধান পাওয়া যায় না। একজন ক্ষুব্ধ গ্রাহক বলেন—
“বিল ঠিকভাবে দিই, কিন্তু লাইন ঠিক হয় না। অভিযোগ দিলে বলে— ঢাকায় কথা বলেন। এভাবে জনগণের টাকায় অফিস চলে, সেবা মেলে না।”
বিটিসিএল প্রতি বছর কোটি টাকার বেশি সরকারি বরাদ্দ পায়— অফিস পরিচালনা, সরঞ্জাম ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও বেতনের জন্য। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি নেই। পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়েই চলছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“বিটিসিএল এখনো পুরনো কপার লাইনেই আটকে আছে। বাজেটের বেশিরভাগ অংশ প্রশাসনিক খরচে ব্যয় হচ্ছে, সেবার মানোন্নয়নে নয়।”
অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, অফিসে উপস্থিতি মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধের অভাব ও তদবির নির্ভর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও অচল করে তুলেছে।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেন,
“উপরের নির্দেশ ছাড়া কোনো বড় কাজ হয় না। অনেকেই দায়িত্বহীন হয়ে পড়েছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটিসিএলকে টিকিয়ে রাখতে চাইলে এখনই কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। তাদের পরামর্শ—
অফিসে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা, অনলাইন অভিযোগ ও বিল ব্যবস্থাপনা চালু করা,
এবং প্রযুক্তি আধুনিকীকরণে বাজেট পুনর্বিন্যাস করা।
জনগণের টাকায় পরিচালিত এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চিত্র হতাশাজনক। অদক্ষতা, দায়িত্বহীনতা ও প্রযুক্তিগত পশ্চাদপদতায় হারিয়ে যাচ্ছে আস্থা। সরকার যদি দ্রুত উদ্যোগ না নেয়, তাহলে বিটিসিএল কেবল কাগজে-কলমেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ