October 30, 2026, 11:57 pm
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

আটঘরিয়া এলজিইডির সড়ক প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার কেশবপুর থেকে বালুঘাটা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও প্রকাশ্য দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী নিজেও জামায়াত এবং জামায়াত নেতা ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচিত মো. সিরাজুল ইসলাম–এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশেই চলছে এই অনিয়ম।

কথিত সাংবাদিক, আসলে ঠিকাদার

সিরাজুল ইসলাম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করলেও তিনি বাস্তবে একজন সুবিধাবাদী ঠিকাদার ব্যবসায়ী ও পাবনা পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী। স্থানীয়দের অভিযোগ—রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একাধিক সরকারি প্রকল্প নিজের দখলে নিয়ে নেন। এরপর মানহীন কাজের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করছেন।

রাবিশ–ভাঙা ইটে রাস্তা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলমান সড়ক প্রকল্পে নতুন খোয়া বা মানসম্মত ইট ব্যবহার করা হয়নি। পুরোনো ভাঙা ইট, রাবিশ ও পোড়া মবিল দিয়ে কাজ চলছে।
তোফাজ্জল হোসেন নামের এক স্থানীয় বলেন, “এই রাস্তা হাত দিলেই ভেঙে যাচ্ছে। সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে, অথচ উন্নয়ন নেই। এটা এক ধরনের প্রহসন।”
আরেকজন সিদ্দিক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবাদ করলেই উপরের লোকদের ভয় দেখিয়ে চুপ করানো হয়।”

প্রকৌশলীর যোগসাজশ

মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, “সিরাজুল আগেও নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করেছে। এবারও একই অবস্থা। উপজেলা প্রকৌশলী আর ঠিকাদারের যোগসাজশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলা প্রকৌশলী বাকিবিল্লাহ ঘুষের বিনিময়ে মানহীন কাজকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

টেকসই নয়, ঝুঁকি বাড়ছে

প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, রাবিশ ও ভাঙা ইট দিয়ে নির্মিত সড়ক টেকসই হয় না। বর্ষায় দ্রুত ভেঙে পড়ে, ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয় এবং জনগণ ভোগান্তিতে পড়ে।

প্রশাসনের নীরবতা

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বাকিবিল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান। অপরদিকে, সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি

এলাকাবাসীর এককথায় দাবি—সিরাজুলের ঠিকাদারি সিন্ডিকেট এবং প্রকৌশলীর ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করতে হবে। স্থানীয়রা বলছেন, “যতদিন পর্যন্ত এই ঘুষ–দুর্নীতি বন্ধ না হবে, ততদিন প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ