টেবুনিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিসের সাহসী অভিযানে বড় বিপর্যয় ঠেকল
জুবায়ের খান প্রিন্সঃ
পাবনার টেবুনিয়া বাজারে ভোরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকানঘর পুড়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের তড়িৎ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুতগতির এই সাড়া স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
আটঘরিয়া ফায়ার স্টেশন সূত্র জানায়,
সকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ারফাইটাররা আগুন নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করেন। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ নির্বাপন সম্পন্ন হয়। অভিযানে ২টি ইউনিট অংশ নেয় এবং নেতৃত্ব দেন সাব-অফিসার মোঃ আব্দুর রহিম।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান,
“সংবাদ পাওয়ার পর আমরা সময় নষ্ট না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আশপাশের দোকান ও বাজার এলাকায় ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারত।”
আগুনে তুলার মালামাল ও বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীসহ ১০x১০ হাত আয়তনের তিনটি টিনের দোকানঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় দোকান মালিকদের একজন বলেন,
“ফায়ার সার্ভিস সময়মতো না এলে পুরো বাজারটাই শেষ হয়ে যেত। তারা অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, আমরা কৃতজ্ঞ।”
আরেকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের এখানে অনেকে এখনো বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির ঝুঁকি সবসময় থাকে।”
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং তদন্ত কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা সংগ্রহ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি—
“বাজার এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন ও ফায়ার সার্ভিসের স্থায়ী সাব-স্টেশন থাকলে এমন ঝুঁকি কমে আসবে।”
এই ঘটনার পর বাজারজুড়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে নতুন করে সচেতনতা দেখা দিয়েছে।