মীম ফয়সাল, পাবনাঃ
পাবনায় ৫ বছরের এক শিশুকে শিক্ষক কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে পাবনা স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘নৃশংস ও মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে বলা হয়, এটি শুধু শিক্ষকতার নৈতিকতা লঙ্ঘন নয়, বরং সংবিধান, শিশু আইন ২০১৩ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী একটি ফৌজদারি অপরাধ।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই অপরাধ আড়াল করার ঢাল হতে পারে না। যারা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বে, তারাই যদি আঘাত করে তবে তা সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সংগঠনটি জানায়, ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে শিক্ষকের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো কেন এ ধরনের নির্যাতন চলছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিশু নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড—কিন্তু আইন প্রয়োগের অভাবেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পাবনা স্টুডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংসতা রোধে কঠোর নজরদারি চালুর দাবি জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিশুর প্রতি যেকোনো শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। শিশুদের জন্য শিক্ষাঙ্গন হতে হবে নিরাপদ, সহানুভূতিশীল ও মানবিক—নয়তো জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য চরম ব্যর্থতা বয়ে আনবে।
স্বাধীন বার্তা