ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তেল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানান। তিনি জনগণকে প্রয়োজনের বেশি জ্বালানি না নেওয়ার আহ্বানও জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। তবুও সরকার চেষ্টা করবে দেশের বাজারে তেলের দাম যেন না বাড়ে। তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন বিষয়টি জনগণকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করা হবে। এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে কখনও কখনও এই আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তেল সংকট নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে ডিলাররাও আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।