খুলনার কয়রা উপজেলার জয়পুর গ্রাম, এলাকাটির শাঁকবাড়িয়া নদীর তীরে অবস্থিত। শেষ প্রান্তে কপোতাক্ষ নদী, আর ওপারে সাতক্ষীরা জেলা।
পৌষের দুপুরে শাঁকবাড়িয়া
নদীতীর–সংলগ্ন রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নজর যায় একজন বৃদ্ধ মহিলার দিকে। মুখে ক্লান্তি আর দীর্ঘ জীবনের ভার। বয়স জানতে চাইলে হালিমা বেগম নামের ওই বৃদ্ধা একগাল হাসি ছড়িয়ে বলেন, ‘তা তো আর হিসাব কইরে রাখিনি, বাপু।
কথায় কথায় জানা গেল, একসময় স্বামী-সংসার সবই ছিল হালিমা বেগমের। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ছিল কয়রা দোশালিয়া গ্রামে । স্বামী মজিবার নদীতে মাছ ধরতেন। সংসারে অভাব ছিল, তবে জীবন থেমে ছিল না। হঠাৎ একদিন ঝগড়া করে বাবার বাড়ি এসে ওঠে ।আর কখনো ফিরে যাওয়া হয়নি স্বামীর সংসারে। তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি কুড়িগড় বেঁধে থাকে হালিমা বেগম।
দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে হালিমা বেগম বলেন, ‘অনেক কষ্টে ছেলেকে বড় করেছিমা, কিন্তু ক্যান্সার হয়ে ছেলেও আমাকে ছেড়ে চলে জান,তার খবরটাও এখানে দিতে পারিনা।
সরকার বা কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়ালে হালিমা বেগম শেষ জীবনটা একটু ভালোভাবে কাটাতে পারবেন।