October 30, 2026, 11:56 pm
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

পাবনা মঙ্গলগ্রামে কার্তিক সাহা হত্যা মামলায় প্রত্যাশিত রায়—দায়রা জজের আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট সকলেই

Reporter Name

পাবনা মঙ্গলগ্রামে কার্তিক সাহা হত্যা মামলায় প্রত্যাশিত রায়—দায়রা জজের আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট সকলেই

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনাঃ
পাবনা জেলার বনওয়ারি নগর ফরিদপুর থানার মঙ্গলগ্রাম এলাকার বহু আলোচিত অনিল কুমার সাহা ওরফে কার্তিক সাহা (৬০) হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সকল জটিলতা দূর করে প্রত্যাশিত ও ন্যায়সংগত রায় প্রদান করায় মামলার বাদী পরিবারসহ স্থানীয়রা বিশেষ জজ (জেলা জজ) আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন খাঁ–এর আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

এজাহার ও মামলার নথি অনুযায়ী, মঙ্গলগ্রাম ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ৪০–৪২ বিঘা জমির মালিক ছিলেন কার্তিক সাহা। তিনি পাবনা শহরের দিলালপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলগ্রামে তার জমিজমা ও সুদের ব্যবসা তদারকি করতেন।
২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি মঙ্গলগ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
চার দিন পর, ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে স্থানীয় পিয়াজক্ষেতের দক্ষিণ পার্শে খড়ের পালার ওপর তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি অবিবাহিত হওয়ায় পরে বোন প্রতিমা রানী রায় ফরিদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামিদের গ্রেপ্তার ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও মামলার তদন্তে উঠে আসে যে আল-আমিন, আসাদুলসহ আরও কয়েকজন মিলে কার্তিক সাহাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে যায়।
আসামি মো. জনি ফকির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান— কার্তিক সাহাকে প্রথমে ডেকে এনে মারধর করা হয়, পরে আল-আমিন তার ঘাড়ে চাপাতির কোপ দেয়। এরপর সে এসিড ছোড়ে এবং সবাই মিলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে খড়ের পালার ওপর ফেলে রেখে আসে।
আদালত আসামিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বেচ্ছায়, নিঃশর্তে ও কোনো প্রভাব ছাড়াই স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর থানা পুলিশ হত্যা মামলাটি কারা ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। ধারাবাহিক সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, এজাহার ও জবানবন্দি পর্যালোচনার পর প্রায় ৯ বছর পর বিশেষ জজ আদালত ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার মামলার রায় প্রদান করেন। যা আমরা জানতে পারি রবিবার ১৬ নভেম্বর ২০২৫ কোর্ট খোলার পর। রায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং দুজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী দুজন আসাদুল ও জনি ফকির আটক আল-আমীন রায়ের দিন থেকে পলাতক আছেন। জানা যায় আলআমীন নতুন আরেকটি হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় পালিয়েছে এবং খালাসপ্রাপ্ত সুজনকে ছেড়ে দেয়া হয় ও খলিল প্রথম দিন থেকেই পলাতক ছিলো। বাকি আসামীদের নাম না বলায় এবং তাদের নামে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ না থাকায় মামলাটি এখানেই নিষ্পত্তি হয়।

অত্যন্ত জটিল, বহু-নথিপূর্ণ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও জেলা বিশেষ জজ আবু সালেহ মো. সালাউদ্দিন খাঁ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মামলাটি পরিচালনা করেন।
বাদীপক্ষ, স্থানীয় জনতা এবং বিচার সংশ্লিষ্টরা জানান— “মাননীয় বিচারকের কঠোর মনোযোগ, নিরপেক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ফলে কার্তিক সাহা হত্যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।”

কার্তিক সাহার বোন প্রতিমা রানী রায় বলেন— “আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আইন ও আদালতের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ