বান্দরবানের লামা-চকরিয়া সড়কের ইয়াংছা বাজার হতে হাঁসেরদিঘি পর্যন্ত প্রায় ১১/১৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। এতে করে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়িত ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি ডাকাতি, মাদকসেবন,ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, এই রোডে চলাচলকারী যাত্রীবাহি বাসের ড্রাইভার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লামা ও আলীকদম দুই উপজেলার প্রায় তিনলাখ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। সড়কের পাশে বেড়ে ওঠা ঘন ঝোপঝাড়ের কারণে বেশ কিছু জায়গা দিনের বেলাতেও নির্জন ও আড়ালযুক্ত হয়ে পড়েছে। এসব স্থানে অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটছে।
এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন ঔষধ কোম্পানির এমআর মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় রাস্তার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। এর সুযোগ নিয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসব জঙ্গলের আড়ালকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করছে। ফলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে ভয় পাচ্ছেন।

সড়কের পাশে কবিরার দোকান বাজারের রেস্টুরেন্টের মালিক ফরিদুল ইসলাম জানান, বাহির থেকে আসা পর্যটকরা প্রায়সময় ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে। সন্ধ্যার পর রেস্টুরেন্টে আসা অতিথিদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। মোটর সাইকেল বা গাড়িতে আসা লোকজনকে লুট করে অভিযুক্তরা ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ায় তাদের শনাক্ত বা আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, সড়কের দুই পাশে নিয়মিত পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কার করা হলে দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ কমবে। এতে সন্ধ্যার পর নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে তৈরি হওয়া আতঙ্কও কমবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ও নির্জন অংশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে সড়কটিতে অপরাধের ঝুঁকি কমবে বলে মনে করেন তারা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বান্দরবানের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও লামা-চকরিয়া সড়কের দায়িত্বরত অফিসার অংশুই প্রু মার্মা বলেন, শীঘ্রই সড়কটির দু’পাশের ঝোপঝাড় পরিস্কার করা হবে। বর্ষাকাল হওয়ায় পরিস্কার করলে কয়েকদিন পরে আবারো জঙ্গলে উঠে যাচ্ছে।
লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ প্রতিবেদক’কে বলেন, সড়কের নিরাপত্তা বাড়াতে রাস্তাটির দু’পাশ পরিস্কার রাখা জরুরি। জনগণের যানমালের হেফাজত করতে নিয়মিত পুলিশি টহল রয়েছে বলে জানান তিনি।