মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) যন্ত্রকৌশল শিক্ষায় সূচিত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে ৪র্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম বিভাগ হিসেবে চালু হওয়া মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশলকে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তৃত শাখা এবং ‘মাদার অব ইঞ্জিনিয়ারিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ গুরুত্ব বিবেচনায় ইউজিসি ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিভাগটি অনুমোদন করে এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট, শাবিপ্রবি ও হাবিপ্রবিসহ মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইইউটি এবং কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, আধুনিক ইঞ্জিন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
পরবর্তীকালে ২২ জুলাই ২০২৬ ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং’ (এমএই) করা হয়। এর মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অটোমোটিভ প্রযুক্তিতেও শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের সমন্বয়ে বিভাগটি ভবিষ্যতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সকলেই প্রত্যাশা করছেন।
#দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় এমএই বিভাগের যাত্রা:
মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা। দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এনআরএফ)’-এর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে সাত বছর মেয়াদি ‘অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ)’ প্রকল্পের আওতায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজ চলছে।
এই প্রকল্পের অধীনে বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক সহযোগিতা, ল্যাব সম্প্রসারণ, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য টেক্সট বই প্রদান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে উল্লিখিত প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে।
এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা বর্তমানে বিভাগের ল্যাবগুলোতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে।
#যেভাবে যাত্রা শুরু:
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগটির যাত্রা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো মাভাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ ও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনের কাছে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।
এরপর ২০২০ সালে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বিভাগ খোলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশসহ ইউজিসিতে প্রেরণ করেন।
পরবর্তীতে ইউজিসি ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি এবং সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই যৌথ প্রকল্পের কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।

#বিভাগটির নেতৃত্বে অধ্যাপক ড. ইকবাল মাহমুদ:
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএই) বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ। মূলত তাঁর উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বিষয়ে যোগাযোগ, বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রকল্প অনুমোদন, বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু এবং প্রকল্প পরিচালনা থেকে সকল কাজেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন,
“মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠা করা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার একার পক্ষে সেই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সফলভাবে তার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে – এতেই আমি আনন্দিত।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যেটা আমরা করতে পেরেছি। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের ফলে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হবে।”
#একাডেমিক কার্যক্রম ও ল্যাব সুবিধা:
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ (ত্রিশ) জন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে বিভাগটিতে তিনটি ব্যাচে ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিভাগের ১ম ব্যাচে নেপাল থেকে আগত একজন শিক্ষার্থী রয়েছে।
নতুন এ বিভাগে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি বিদ্যমান। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড অটোমোটিভ রিসার্চ (সিএএআর), ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রথম গবেষণা ইঞ্জিন (ইঞ্জিন সিমুলেটর) বিভাগে সংযোজিত হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ৩০টিরও বেশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। প্রকল্প মেয়াদ পর্যন্ত আরও অনেক গবেষণা সরঞ্জামাদি বিভাগে যুক্ত হবে।
#বর্তমানে যেসব ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে:
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনটি ক্লাসরুম, ১০০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল, ১০০০-এর অধিক বই সম্বলিত সেমিনার লাইব্রেরি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ (মেশিন শপ, ফেব্রিকেশন ও শিট মেটাল শপ, ওয়েল্ডিং শপ), অ্যাডভান্সড মেকানিক্স ল্যাব, মেট্রোলজি ল্যাব, ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাব, থার্মোডাইনামিক্স ল্যাব, হিট ট্রান্সফার ল্যাব, ইঞ্জিন ল্যাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ল্যাব এবং সিএএআর (সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড অটোমেটিভ রিসার্চ)।
এছাড়াও ভবিষ্যতে ক্যাড (সিএডি) মডেলিং ও সিমুলেশন কাম কম্পিউটার ল্যাব, ফ্লুইড মেশিনারিজ ল্যাব, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ল্যাব, ম্যাটেরিয়ালস টেস্টিং ল্যাব, প্রোডাকশন ল্যাব, রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ল্যাবসহ বেশ কিছু আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও সহযোগিতা কার্যক্রম এবং উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া গমন
উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় এবং শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে শিক্ষা সফরে ১০ জন করে শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন। মূলত কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও শিক্ষার আধুনিকায়নে তারা এ সফরে এসেছিলেন।
২০২৪ সালের ৮ জুলাই ১০ জন শিক্ষার্থী দশ দিনের শিক্ষাসফরে ২য় বারের মতো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় তারা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করা, ফুটবল ম্যাচ খেলা, বিভাগ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ ছাড়া তারা যৌথভাবে আইইউটি (ইসলামিল ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজি)-তে একটি এডুকেশন ভিজিটে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় আইইউটি ও বুয়েট-এর চারজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোরিয়ার সরকার প্রদত্ত জিকেএস স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।
#বিভাগটির বর্তমান অবস্থা:
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
বিভাগে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। ইউজিসি কিছু শিক্ষক ও টেকনিক্যাল পদের অনুমোদন দিয়েছে। সেসব পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিভাগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন,
“মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক ও ল্যাবের টেকনিক্যাল জনবলের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষে ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট, চূড়ান্ত বর্ষে রিসার্চ ও থিসিস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিং রয়েছে। এ সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক অপরিহার্য।
এছাড়াও বিভিন্ন ল্যাবের যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিষয়ভিত্তিক কারিগরি জনবল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কর্তৃক প্রদেয় আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতিসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভাগটি দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।”
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিভিন্নজনের মতামত মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন,
“প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।
নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান বলেন,
“মাভাবিপ্রবিতে নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটির অগ্রযাত্রা আমাকে সত্যিই আশাবাদী ও মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জামাদির যথেষ্ট সমৃদ্ধি রয়েছে। তবে শিক্ষক সংকট একটি সাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিভাগটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই বিভাগ দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করবে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি। নবীন এই বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করছি।”
মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন,
“মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও ইতোমধ্যে শিক্ষা, পাঠদান ও একাডেমিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভাগটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ও সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি সুবিধা।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরন্তর নিষ্ঠা, প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিভাগটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রকৌশল শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”
প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো বলেন,
“মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। বিভাগের প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি ও যন্ত্রপাতি উন্নয়নে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও বিভাগের প্রয়োজন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
আমার বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ক্রমবর্ধমান এই সহযোগিতা তাদের ভবিষ্যতের জন্য, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে, নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে।”
নেপাল থেকে আগত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীদ আনসারি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
”বাংলাদেশ আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি দেশ ছিল। আর বিভাগটিও নতুন হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ও উদ্বেগ কাজ করছিল। তবে এখানে আসার পর আমার সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে যায়। বাংলাদেশের মানুষ এতটাই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ যে কখনোই মনে হয়নি আমি নিজের দেশের বাইরে আছি।
এই বিভাগ আমাকে আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি দিয়েছে। এখানকার সবাই আমার খুব আপন, বিশেষ করে আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ স্যার। মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ ও গর্বিত।”

বিভাগের প্রথম ব্যাচ (২০২৩-২৪)-এর শিক্ষার্থী মশিউর রহমান মারুফ বলেন,
“গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন এই বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার নাম ছিল প্রথম। সত্যি কথা বলতে, শুরুতে আমার মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পড়ার কোনো বিশেষ ইচ্ছা ছিল না। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভাগের সহযোগিতার কথা শুনেই আমি এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
তবে ভর্তি হওয়ার পর বিভাগের ল্যাবগুলো দেখে আমার ভেতরে যে আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজ মনে হয়, যদি আমি এই বিভাগে না পড়তাম, তাহলে হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সুন্দর একটি অংশই মিস করতাম।
এই পথচলায় যারা আমাকে সবসময় সমর্থন ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আমার অভিভাবক এবং বিভাগের অভিভাবকতুল্য শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। নানা চ্যালেঞ্জ একাই সামলে তিনি যেভাবে বিভাগটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার।
সবকিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং গর্বিত যে, আমি এই পরিবারের একজন সদস্য।”
বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ (২০২৪-২৫)-এর শিক্ষার্থী সাব্বির হাওলাদার বলেন,
“শৈশব থেকেই গাড়ি ও এর প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালীর প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই আমাকে মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথে নিয়ে আসে।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পর মাভাবিপ্রবির নবীন বিভাগ হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ আমাকে এই বিভাগে আসতে অনুপ্রাণিত করে।
দ্বিতীয় ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এখন মনে হয়, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। একটি নবীন বিভাগকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা এবং সেই অগ্রযাত্রার অংশ হওয়া সত্যিই গর্বের।
আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্ব বিভাগের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আমাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে।
চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে এই বিভাগ থেকেই দেশের অটোমোটিভ শিল্প ও বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি। এমন একটি উদীয়মান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।”
বিভাগের তৃতীয় ব্যাচ (২০২৫-২৬)-এর শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন,
“মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই ক্রমবর্ধমান পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।
অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ও উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধার মাধ্যমে আমাদের বিভাগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অগ্রগতির পেছনে আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিভিন্ন সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের বিভাগ ভবিষ্যতে প্রকৌশল ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
এই বিভাগ আমার কাছে শুধু শিক্ষার স্থান নয়, বরং একটি পরিবার, যার প্রতি আমার ভালোবাসা ও নিবেদন আজীবন থাকবে।”