September 15, 2026, 10:50 am
শিরনাম :
ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তালায় বীমার টাকা ফেরতের দাবীতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন কপোতাক্ষের ভাঙনে তালার ৪ গ্রামে আতঙ্ক

কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি

সৈয়দ জালিস মাহমুদ

কাপড় পেঁচিয়ে ফুটবল খেলা, মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে বল তুলে দিলেন এডিসি

ফাটা ফুটবলে কাপড় পেঁচিয়ে খেলছিল একদল মাদ্রাসাছাত্র। নতুন বল কেনার সামর্থ্য নেই, তাই অন্যরা খেলতে এলে তাদের বল পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হতো। কখনো বল পেলে খেলা, না হলে বসে থাকা—এভাবেই চলছিল তাদের ফুটবল খেলা।

বাগেরহাট শহরের সরুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইমরান ব্যাপারী, মোঃ রায়হান, ইয়াসিন ও আরাফাতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের। বিষয়টি দেখে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের কার্যালয়ে আসতে বলেন। পরে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাদের হাতে নতুন ফুটবল তুলে দেন তিনি।

নতুন বল পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছে এটি শুধু একটি ফুটবল নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্যের বাইরে থাকা একটি আনন্দের সুযোগ। এতদিন অন্যের বলের অপেক্ষায় থাকা ইয়াসিন, আরাফাতসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এখন নিজেদের বলেই মাঠে খেলার সুযোগ হলো।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইমরান ব্যাপারী বলেন, আমরা আগে ফাটা বলটাকে কাপড় পেঁচিয়ে খেলতাম। স্যার আমাদের খেলতে দেখে অফিসে আসতে বলেছিলেন। আজ আমরা এসে স্যারের কাছ থেকে বল পেয়েছি। আমরা স্যারের জন্য দোয়া করি, তিনি যেন ভালো থাকেন। বাবা-মায়ের পক্ষে আমাদের বল কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। অন্যরা বল খেলতে এলে তাদের কাছে বল নেওয়ার জন্য বসে থাকতাম। তারা দিলে খেলতাম, না দিলে খেলতে পারতাম না। স্যার আমাদের কথা শুনে বল দিয়েছেন, এতে আমরা অনেক খুশি।

আরেক শিক্ষার্থী মোঃ রায়হান বলেন, আমাদের খুব ইচ্ছে করত মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলতে। কিন্তু নিজেদের কোনো বল ছিল না। অন্যরা খেলতে এলে তাদের বল নিয়ে খেলতাম। অনেক সময় বল না পেয়ে শুধু বসে থাকতে হতো। এখন স্যার আমাদের একটি বল দিয়েছেন। আমরা নিজেরা মিলে খেলতে পারব। স্যারকে বল দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমরা স্যারের জন্য দোয়া করি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন,তাদের দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। আমরাও যখন বল কেনার সামর্থ্য ছিল না তখন সবাই মিলে বাতাবি লেবু দিয়ে বল বানিয়ে খেলতাম। নিজের বাবা-মায়ের সামর্থ্য না থাকলে শিশুদের কতটা কষ্ট হয়, সেটা আমরা বুঝি।

তিনি বলেন, আমি দেখলাম, তারা ফাটা একটি ফুট বলের ওপর কাপড় পেঁচিয়ে খেলছে। বিষয়টি দেখে আমার খুব খারাপ লাগল। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে অফিসে আসতে বলি। তারা জানায়, তাদের নিজেদের কোনো বল নেই। অন্যের বল পেলে মাঝে মধ্যে খেলতে পারে, না হলে ফাটা বল দিয়েই খেলে। এখন অন্তত অন্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তারা নিজেরাই ভাগাভাগি করে খেলতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নয়, সব কোমলমতি শিশু যেন মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলার মধ্যে আসে, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় তাদের পাশে আছি। শিশুদের যাতে সামর্থ্যের অভাবে এমন কষ্ট পেতে না হয়, সেই ভাবনা থেকেই তাদের ডেকে বলটি দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ