September 15, 2026, 12:35 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ঝালকাঠীতে আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ক্ষোভ

মো. আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি 

ঝালকাঠি জেলা জজকোর্টে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি), সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা কয়েকজন ত্যাগী নেতা-কর্মী এসব পদে স্থান না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ফেসবুক খুললেই এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ও মতামত। বিষয়টি বর্তমানে ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলের দুর্দিনে মাঠে থাকা অনেক নেতাকর্মী বিষয়টিকে নিজেদের জন্য হতাশাজনক ও বঞ্চনার ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও জজকোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন এক ফেসবুক পোস্টে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লিখেছেন, দলের চরম দুঃসময়ে হেলমেট পরে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে, তখন বয়স কিংবা শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে তিনি পিছিয়ে যাননি। কিন্তু দলের সুসময়ে তাকে যেভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, তা মজলুম দলের নেতাকর্মীরা আশা করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য একটি পোস্টে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘মেঘের আড়ালে সূর্য হাসে। ইনশাআল্লাহ নতুন আলোয় আলোকিত হবেন।’ একই সঙ্গে তিনি তার প্রতি দোয়া, ভালোবাসা ও শুভকামনা জানান।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান তার ফেসবুক পোস্টে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ও ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি তাদের জেলা বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ের সম্মানিত সদস্য উল্লেখ করে বলেন, তাদের সম্মানিত করা হলে নেতাকর্মীরাও সম্মানিত বোধ করবেন। রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও দুজনেরই সজ্জন মানুষ হিসেবে সুনাম রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিটন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসানকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার সাফায়েত হোসেনও ফেসবুক পোস্টে অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসানের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ এখন বিএনপির সুবিধা নিতে বড় নেতা সাজার চেষ্টা করছেন।

ঝালকাঠি জজকোর্টের সাবেক এজিপি ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন হাওলাদারও এ নিয়োগ নিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ঝালকাঠি জজকোর্টে পিপি, এপিপি, জিপি ও এজিপি পদে ‘দোসরদের ছড়াছড়ি’ হয়েছে।

এদিকে, পিপি, এপিপি, জিপি ও এজিপি পদে নিয়োগকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা বিশ্লেষণ। একপক্ষ দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছে, অন্যপক্ষ অতীতে দলের সাথে থাকায় তাহারা সামনের সারিতে এসে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ