September 15, 2026, 11:45 am
শিরনাম :
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তালায় বীমার টাকা ফেরতের দাবীতে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধন

১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট

বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতার ২৯ মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবি পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানাসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিং এ নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে লংমার্চ সফল করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে দেশবাসী অংশ নিয়েছিল তারা লংমার্চে অংশগ্রহণ করবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ নানা সংকট দেশে তৈরি হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনে সরকারের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। সরকারের ৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায়।
তারা বলেন, দেশে চাঁদাবাজির ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। দেশে সার সংকট হয়েছে কৃষকরা সার পাচ্ছে না। সরকার এগুলো স্বীকার না করে প্রতারণা করছে। সরকার জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করছে। সরকারের ১৮০ দিনই অব্যবস্থাপনার। এই সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই দেশ পরিচালনার। বিরোধীদল জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রস্তাবনা দিলেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র নীতির উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিং ইস্যুতে ভারত সরকারকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দিল্লিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক সম্ভব নয়। আমরা যেকোনো দেশের সাথে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই।
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য করা হচ্ছে। বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের দমনপীড়ন করা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করা হচ্ছে।
সরকার নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ করেছে সরকার। নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হয়েছে। সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট মানছে না, জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার যদি জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে ১১ দল তার উপযুক্ত জবাব দেবে। দেশবাসীকে লংমার্চে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লংমার্চ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, এতে যদি কোনো প্রকার রাজনৈতিক বাধা কিংবা প্রশাসনিক বাধা আসে তাহলে তা আমরা প্রতিহত করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা পর্বে রাজধানীতে জনসমাবেশ হবে। লংমার্চে যাওয়ার পথে বিভিন্ন পয়েন্ট পথসভা হবে। লংমার্চ আমরা ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে করব।
আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। সরকার গঠনের ৬ মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে উপেক্ষা করা হয়েছে, উদ্যোগ নেয়া হয়নি এড়িয়ে চলেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অবজ্ঞা করা হয়েছে। এজন্য আমরা আন্দোলন করছি।
তারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার কিংবা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার যেন এদিক সেদিক উকিঝুঁকি না করে। সরকার সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের দিকে ধাবিত হচ্ছে- এতে সরকারের পরিণাম ভালো হবে না, এটি আমাদের স্পষ্ট বার্তা। দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী ঊর্ধ্বগতি। মানুষের কান্না থামানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ তেল গ্যাসের সংকটে কারাখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করাই আমাদের আন্দোলনের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ