September 15, 2026, 12:34 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করা হবে— হামিদুর রহমান আযাদ

ডেস্ক রিপোর্ট

ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত ২১ ও ২২ আগস্ট, ২০২৬ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড আমীর/সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আফজাল হোসাইন।
প্রধান অতিথি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নয়; বরং নাগরিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি রাষ্ট্র, জাতি-রাষ্ট্র ও ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণা এবং এসবের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আদল বা ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ নবী করিম (সা.)-কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও নৈতিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে। মদ্যপান, অবৈধ বাণিজ্য, ঘুষের বিনিময়ে বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা—এসব সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তির চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নয়ন অপরিহার্য। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা সবসময় খারাপ কিছু নয়; অনেক সময় সমস্যা মানুষের জন্য শিক্ষা ও পরীক্ষার কারণ হয়। তাই প্রতিবন্ধকতা দেখে পিছিয়ে না গিয়ে তা মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি প্রতিবন্ধকতাকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক—এই দুই ভাগে উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঈমান, আমল ও আখলাকের দুর্বলতা বড় প্রতিবন্ধকতা। দায়িত্ব পাওয়ার পর অহংকার, নেতিবাচক মানসিকতা এবং দায়িত্ব পালনে অনীহাও সাংগঠনিক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একইভাবে পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাও কর্মীদের দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলতে পারে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। রুকন হিসেবে শপথের মাধ্যমে যে দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে, সাংগঠনিক নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সামষ্টিক পর্যায়ে অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো জনগণের একটি অংশের মধ্যে ইসলামের সঠিক জ্ঞানের অভাব। তাই মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা, ন্যায়-ইনসাফ, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে কর্মীদের আরও সক্রিয় হতে হবে। বর্তমান সময়ে কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নবী-রাসূলদের জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে প্রতিবন্ধকতা আসবেই। পবিত্র কুরআনের সূরা ইয়াসিনের ৩০ নম্বর আয়াতে পূর্ববর্তী জাতিগুলোর নবী-রাসূলদের প্রতি বিদ্রূপের কথা উল্লেখ রয়েছে—“কোনো রাসূল তাদের কাছে আসেননি, যাকে তারা উপহাস করেনি।” তাই দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কাজে প্রতিকূলতা দেখে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। বরং আত্মশুদ্ধি, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও গণসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষা শিবিরে সাংগঠনিক দায়িত্ব, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা, পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মসিউল আলম বলেন, দক্ষ, প্রশিক্ষিত, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে উন্নত কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এজন্য প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিষ্ঠা, ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শিক্ষাশিবিরে দিনের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ।
শিক্ষা শিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন, সহিহ কুরআন শিক্ষা প্রদান করেন তালিমূল কুরআন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্যানেল উস্তাদ ড. হাফেজ মাওলানা মোঃ আব্দুল জব্বার, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ