রাজশাহীর বাগমারায় সমবায় প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড় এলাকায় ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষকে আর্থিক সুবিধা ও লাভের লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কেএম আব্দুর রহিম ও মো. অহিদুল ইসলাম বাগমারা থানায় পৃথক মামলা করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ময়নুল ইসলাম (৩৬)সহ চারজনকে আসামি করা হয়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, কেএম আব্দুর রহিম ২৮ লাখ টাকা এবং তার ভাই মো. ওয়াছেক আলী বিল্লাহ ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন। তাদের মতো আরও বহু মানুষ অর্থ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার পর বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি ও ‘স্বচ্ছতা রাজশাহী লিমিটেড’-এর পরিচালক ময়নুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে, একই আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর কাফরুল থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অন্য একটি প্রতারণা মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত এবং দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. শিমুল বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের যথাযথ পুলিশি প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ময়নুল ইসলাম গ্রেপ্তারের খবরে প্রতারিত গ্রাহক ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রতারিতদের অর্থ উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বাগমারা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অনিবন্ধিত এনজিও বা সমবায় সমিতিতে অর্থ বিনিয়োগের আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিগুণ লাভ বা অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভনে না পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।