জন্ম ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশে ৮০টিরও অধিক সম্প্রদায়ের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এইসকল মানুষ সুইপার, ডোম, কানপুরী, তেলেগু, ঋষি, কাওরা, বেঁদে, রবিদাস, পৌন্ড্র, চা-শ্রমিক, নিকারী, শিকারীসহ বিভিন্ন সামাজিক পরিচয়ে জীবন-যাপন করেন। এঁরা আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ভাবে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার।
নাগরিক উদ্যোগ এই জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় সংস্থাটি বাংলাদেশের দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানুষদের অধিকার সুরক্ষিত করা ও তাদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘মানবাধিকার সুরক্ষা ও সহায়তার মাধ্যমে দলিত ও সামাজিক ভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচন ও বিদ্যমান বৈষম্য লাঘব’ শিরোনামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির অধিনে মৌলিক অধিকার ও নাগরিক পরিষেবায় দলিত জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা বিষয়ক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নাগরিক উদ্যোগের আয়োজনে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে তালা উপজেলা প্রাণী সম্পদ প্রশিক্ষন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, দলিত নেত্রী সোমা সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আরিফুরজামান ও তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক।
নাগরিক উদ্যোগ’র ফিল্ড কো-অডিনেটর জুয়েল সরকার’র পরিচালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, নাগরিক উদ্যেগের ফিল্ড কো-অডিনেটর পলাশ হালদার, ফাইন্যান্স এন্ড এ্যাডমিন অফিসার পবিত্র মন্ডল, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বি.ডি.ই.আর.এম) এর কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সভাপতি জয়ন্তী রানী মন্ডল, বিডিইআরএম এর জেলা সভাপতি দিলিপ দাস, অন্ত্যজ নেত্রী স্বরসতী দাস ও সুমিত্র সরকার প্রমুখ। এসময় দলিত কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সরকারি পরিষেবায় দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় ও যোগাযোগ শক্তিশালী করা, খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি ভাবে স্থায়ী কবরখানা তৈরি, সুপেয় পানি সরবারহ নিশ্চিত করা, দলিত অধ্যুষিত এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কাচা রাস্তা উন্নয়নের দাবী উপস্থাপন করা হয়।