October 31, 2026, 8:54 am
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

পাথরঘাটায় জেলের ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে নৌ পুলিশের চাঁদা গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

মাহমুদুর রহমান রনি, বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে জেলের ছদ্মবেশে যাওয়া এক অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাছ থেকে চাঁদা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার, ছোট জাহাজ ও জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ ছিল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে গোপন অনুসন্ধান চালান।

অনুসন্ধানকালে তিনি নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে জেলের পরিচয়ে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মুঠোফোনে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকাশে কিছু টাকা পাঠানোর পর তা কম হয়েছে জানিয়ে আরও টাকা নিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলা হয়।

পরদিন জেলের ছদ্মবেশে সাংবাদিক চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এএসআই কবির তাকে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে সাংবাদিকের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করে নিজ হাতে গুনে নেন তিনি। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানের সময় এএসআই কবিরের সঙ্গে কথোপকথনে আদায় করা অর্থের ভাগ-বণ্টন সম্পর্কেও বিভিন্ন বক্তব্য উঠে আসে। এ সময় তিনি দাবি করেন, আদায় করা টাকার একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও দিতে হয়।

ছদ্মবেশী সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ বলেন, জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিলেন যে নৌ-পুলিশ তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আমি জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে নামি। এএসআই কবির হোসেন সরাসরি টাকা দাবি করেন এবং বিকাশে টাকা নেওয়ার পর বাকি টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন। টাকা না দিলে নদীতে ট্রলার চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী মিয়া বলেন, “এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

এ বিষয়ে এএসআই মো. কবির মুঠোফোনে বলেন, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না।

বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, “জেলেদের হয়রানির অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করা হবে।

বরিশাল নৌ পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ