July 25, 2026, 5:47 pm
শিরনাম :
বরিশাল জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন মাদার নদীর বাঁশের স্যাকোটি ব্রীজ করার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কবিরহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ

সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ‘পর্দা’ নিয়ে আপত্তিজনক ও অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ- মিয়া গোলাম পরওয়ার

এস এম আরাফাত হোসাইন

জাতীয় সংসদে দেয়া সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ‘পর্দা’ নিয়ে আপত্তিজনক ও অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এক বিবৃতি প্রদান করেছেন- মিয়া গোলাম পরওয়ার
রবিবার, ১৪ জুন জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘পর্দা’ এবং নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে যে আপত্তিজনক এবং অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “পর্দা ইসলামের একটি অন্যতম ফরজ বিধান। এই মহান ও পবিত্র বিধান নিয়ে জাতীয় সংসদের মতো একটি দায়িত্বশীল ও পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে মনিরুল হক চৌধুরী যে ধরনের আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং মুসলিমদের হৃদয়ে চরম আঘাত হানার শামিল।
তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বাজেট আলোচনার নির্ধারিত বিষয়বস্তু থেকে বিচ্যুত হয়ে মনিরুল হক চৌধুরী রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের মনগড়া গল্প টেনে আনেন। এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত সম্মানিত নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে চরম আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। একজন আইনপ্রণেতার মুখ থেকে সংসদ অধিবেশনে এ জাতীয় অশালীন ও অসংযত বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণে সংসদের ভেতরে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এবং পুরো অধিবেশন কক্ষে এক নজিরবিহীন হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবতারণা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে কঠোর ভাষায় তাকে সতর্ক করতে হয়েছে এবং বলতে হয়েছে যে, ‘এই মহান সংসদ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।’ আমরা সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্পিকারের এই সময়োপযোগী অবস্থান এবং বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্যটি সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ইসলামের একটি মৌলিক বিধান এবং সম্মানিত নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার যে অপপ্রয়াস চৌধুরী চালিয়েছেন, তা তার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও সংকীর্ণ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। একজন রাজনীতিবিদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের বাজেট, অর্থনীতি ও জনগণের কল্যাণ নিয়ে কথা বলা; ব্যক্তিআক্রমণ কিংবা ধর্মীয় বিধানকে উপহাস করা নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনিরুল হক চৌধুরীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো উসকানিমূলক এবং নারীদের মর্যাদাহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে, মহান সংসদে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সকল সংসদ সদস্যকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ