চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার অন্যতম সামাজিক সংগঠন ‘সারা আনোয়ারা’ এক দশকের পথচলা পেরিয়ে ১১ বছরে পদার্পণ করেছে। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং গণসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা সংগঠনটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মালেক চৌধুরীর উদ্যোগে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে ‘সারা আনোয়ারা’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ করাই ছিল সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।
সংগঠনটি শুরু থেকেই শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে চালু করা হয় ‘সারা আনোয়ারা মেধাবৃত্তি’ কার্যক্রম। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কুল ফি, পরীক্ষা ফি ও শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ নানা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করতে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে ‘সাহিত্য আসর’।

সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী কিংবা যেকোনো সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও করোনা মহামারির সময় ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাবলম্বী প্রকল্প, ইফতার বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা।
মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে রক্তদান, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে ‘সারা আনোয়ারা’। মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের মতো কর্মকাণ্ডও সংগঠনটির নিয়মিত কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘সারা আনোয়ারা ক্রীড়া চক্র’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ, খেলোয়াড় বাছাই এবং ক্রীড়া উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সংগঠনটির দল।

সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা বিকাশে ‘সারা আনোয়ারা প্রতিভা অন্বেষণ’ আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। আবৃত্তি, ইসলামি সংস্কৃতি, চিত্রাঙ্কন, ভিডিওগ্রাফি, অভিনয়, সংগীতসহ বিভিন্নি বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এছাড়া ‘সারা আনোয়ারা’ পরিচালিত কমিউনিটি পোর্টাল স্থানীয় সংবাদ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। উপজেলার বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সংবাদ প্রথম প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও অবদান রেখেছে প্ল্যাটফর্মটি।
বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। বিভিন্ন পেশার মানুষ এতে যুক্ত রয়েছেন। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে অনুসারী সংখ্যা ৪৬ হাজারের বেশি এবং পাবলিক গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ৯২ হাজার ছাড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠার এক দশক পেরিয়ে ‘সারা আনোয়ারা’ এখন শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়; বরং শিক্ষা, মানবতা, সামাজিক উন্নয়ন ও তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের এক নির্ভরতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।