বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ নিরীহ মানুষদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে পরিবেশ,কৃষিজমি এবং সরকারি অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কালাপাড়া, লাইল্যামার পাড়া, হারগাজা, ফকিরাখোলা, বগাইছড়ি ও মালুম্যা এলাকায় দিন-রাত সেলু মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে নদী ও ঝিরি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র, যারা রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তারা প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের চাষের জমি ধংস এই অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে চাইলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়, লামার পার্শ্ববর্তী ডুলহাজারা ইউনিয়নের বালুখেকো সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের অদৃশ্য শক্তি পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের নাকি অনেক ক্ষমতা, এ কারণে অনেকেই আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদী ও ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী এম রুহুল আমিনসহ পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন— রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা কি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান?
উল্লেখ্য,৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ফেতাইন্যাছড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারকারিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে পাঁচটি বালু উত্তোলনকারী সেলু মেশিন জব্দ করে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কোনভাবেই সহ্য করা হবে না।”
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারে কার্যকরের পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে পরিবেশ জৈব বৈচিত্র্য ও জনস্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়।