July 25, 2026, 7:29 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ‘জাস্টিস এন্ড কেয়ার’-এর সহযোগিতায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে “মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬” বিষয়ক দিনব্যাপী এক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, (১৪ মে) কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ এই সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০০ সালে গৃহীত জাতিসংঘ কনভেনশন (UNTOC) এবং এর সম্পূরক প্রোটোকলগুলোর (TIP ও SOM Protocol) আলোকে বাংলাদেশ সরকার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

সিনিয়র সচিব আরও বলেন, “নতুন এই আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়, বরং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম কর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচার অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সংস্থাসমূহকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা, সম্পত্তি আটক করা এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো যুগান্তকারী বিধান এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট বা ভিসা জালিয়াতিকেও কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে মূলতঃ অপরাধীদের আর্থিক জবাবদিহিতা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এর প্রধান নতুন সংযোজন ও পরিবর্তনসমূহ নিম্নরূপ:

(১) সমন্বিত আইনি কাঠামো ও পৃথক সংজ্ঞা:

পূর্ববর্তী ২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে সঠিকভাবে আলাদা করা হয়নি। নতুন আইনে এই দু’টিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে:
জাতিসংঘের প্রোটোকলের সাথে সামঞ্জস্য: মানব পাচারের সংজ্ঞাকে জাতিসংঘের টিআইপি (TIP) প্রোটোকলের সাথে এবং অভিবাসী চোরাচালানকে এসওএম (SOM) প্রোটোকলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। একীভূত বিধান: প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত সকল বিধান এই একটি আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

(২) কঠোরতর দণ্ড ও নতুন অপরাধের অন্তর্ভুক্তি:

অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে: সহায়তাকারীর শাস্তি: পাচারকারীকে সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে বা নথি গোপন করে সহায়তা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৩০,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যৌন শোষণ: এই উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তর করলে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা জরিমানা। অনলাইন প্রতারণা: অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন বা অভিবাসনের নামে প্রতারণা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে।

(৩) তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতার আধুনিকায়ন:

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ: তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও আয়-সম্পদ যাচাইয়ে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ ক্ষমতা: মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল এখন পাচার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের (যেমন: আঘাত, মাদক পাচার বা যৌন সহিংসতা) বিচারও একই সাথে করতে পারবে, যা আগে আলাদা আদালতে করতে হতো। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (MLA): বিদেশে অবস্থিত সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

(৪) ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:

ভুক্তভোগী বা সাক্ষীকে হুমকি দিলে ৩ থেকে ৭ বছর এবং আপস করতে বাধ্য করলে ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনি দায়মুক্তি: পাচারের শিকার থাকাকালীন ভুক্তভোগী যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট অবৈধ কাজ (যেমন: জাল পাসপোর্ট বহন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ) করে ফেলে, তবে তাকে আসামি হিসেবে গণ্য না করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। পুনর্বাসন তদারকি: আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ভুক্তভোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি ৬ মাস অন্তর প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৪৮ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ গমনের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং মানব পাচারকারী চক্রের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ