মাত্র তিন দিন আগের কথা। বোগলে গুটি কয়েক পত্রিকা নিয়ে নতুন বাজার এলাকায় হাজির কমিউনিষ্ট নেতা কমরেড নাসির তালুকদারের কাছে। ওই গুটি কয়েক পত্রিকা থেকে একটি প্রথম আলো পত্রিকা তুলে হাত বাড়িয়ে দেন নাসির তালুকদারের দিকে,মুখে কোন শব্দ ছিল না। নাসির তালুকদার পত্রিকাটি নিয়ে পকেট থেকে টাকা বের করে ১৫ টাকা ধরিয়ে দেন হকার ছালামকে। বল্লেন,তোকে কিন্তু তিন টাকা বেশী দিলাম। ছালাম কথাটি শুনে পেছন ফিরে সেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটতে লাগলেন। আমি তখন ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। দেখলাম, কেমন যেন একটা বিষণ্ণতা, রুগ্ন,শুকনো মুখটি যেন কি একটা আভাস দিচ্ছে। নাসির ভাইকে বলল্লাম, ওর স্বাস্থ্যগত বিষয়টা খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। নাসির ভাইও ওকে ডেকে বল্লেন, ঠিকমত খাইস,ঠাইস।
আজ ছালাম নেই। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে ওর নিজ বাড়ীতে মৃত্যু হয়। এমন দিনে ওর মৃত্যু প্রমান করে ‘ও’

একজন ভালো, সৎ এবং নির্লোভ মানুষ ছিলেন । ওর মৃত্যুর সংবাদটি শুনে মর্মাহত হয়েছি,ব্যাথিত হয়েছি। কেমনে চলবে ওর সংসার কেমনে চলবে ওর পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ বছর ধরে কলাপাড়া পৌরশহরে খুড়িয়ে খুড়িয়ে পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো ছালাম। কত মানুষই ওর পরিচিত ছিল কেউ তো কখনো এগিয়ে আসেনি ছালামের সহায়তায়। সে যেন আমৃত্যু পুষ্টিহীনতায় ভূগছিল। কি আর বলার বুঝি, সব মানুষকেই এক সময় তার শেষ গন্তব্যে যেতেই হবে,তবুও সৃষ্টিকর্তার কাছে আবেদন নিরপরাধ ছালামকে আপনি জান্নাতবাসী করেন।