কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাঘাইছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস ২০২৬”।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ‘পার্টনার’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
“প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের অধীনে এবং জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই কংগ্রেসে কৃষকদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের শাকসবজি ও ফল চাষের আধুনিক কৌশল, সঠিক পদ্ধতিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনীর মাধ্যমে কোন মৌসুমে কোন ফসল অধিক উৎপাদনশীল হয়, সে বিষয়েও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দীন মজুমদার এবং পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার শাহরিয়ার বিশ্বাস।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ এবং পিএফএস ও নন-পিএফএসভুক্ত কৃষক-কৃষাণীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নুর আলম। তিনি বলেন, পার্টনার প্রকল্প বাঘাইছড়ির কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য কৃষির উন্নয়ন অপরিহার্য এবং এ ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক নারী কৃষক জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সঠিক পদ্ধতি শিখতে পেরেছেন। আগে যেখানে কীটনাশক ব্যবহারে ভুল হতো, এখন তারা জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন, ফলে উৎপাদন খরচ কমছে এবং আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিনিয়র মনিটরিং অফিসার শাহরিয়ার বিশ্বাস বলেন, পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, নিরাপদ বীজ সরবরাহ, প্রাকৃতিক কীটনাশকের ব্যবহার এবং বহুমুখী ফসল চাষের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে কম খরচে অধিক উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, সরকার কৃষি খাতকে আরও টেকসই করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।