July 25, 2026, 7:30 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

মৃত্যুর ঝুঁকিতে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী

জিএম তারিকুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনা জেলার সুন্দরবন উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান চলছে পরিত্যক্ত ভবনে। দীর্ঘ বছর ধরে ভবনটির বেহাল দশা। ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকরা। এই ঝুঁকি ও আতঙ্ক  নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও পিলারে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া, রড বেরিয়ে আসা। ফলে শিক্ষার্থীরা সবসময়  ভবন ধসের আতঙ্কে থাকে, যা তাদের পড়াশোনা-মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়।

উপকূলের এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে দীর্ঘবছর উপকূলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট এর সহযোগিতায় ২০০০ সালে একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ হয়। কিন্তু আয়লা, ইয়াস, রিমাল, ঘূর্ণিঝড়ে ভেড়িবার্ধ প্লাবিত হয়ে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়। পরিত্যক্ত ভবনটির জানালা, দরজা, ওয়াল কিছুই নাই, আছে শুধু ফাটা সাদ আর বাঙ্গা খুটি।

জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহতও হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এই বিদ্যালয়ে এক সময় লেখাপড়ার মান অনেক ভালো ছিলো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর স্কুলের মূল ভবন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে আছেন  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে কখন ভেঙ্গে এই ভয়ে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

জরুরী একটা ভবন নির্মাণ করা হলে পুনরায় স্কুলের লেখা পড়ার মান ফিরেও আনা সম্ভব।

উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবনের দাবিতে অভিভাবক ও শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানালেও কোনো সমাধান মিলছে না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, ঝুকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে পাঠদানে মন বসে না। কারণ পরিবেশের সঙ্গে পাঠদান  কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক আছে। টিনসেড এ অল্প জায়গায় অনেক ছাত্রছাত্রী ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মনোরম পরিবেশে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশের জন্য একটা বড় ভবন প্রয়োজন।

কাজী আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সাইফুল হায়দার বলেন, শিক্ষার মান উন্নত নিশ্চিত করতে জরাজীর্ণ এই ভবন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন। স্কুল এন্ড কলেজের মূল ভবনটি এখন ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সুফল মিলছে না।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়টির মূল ভবন অনেক জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নতুন ভবন আশা প্রয়োজন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে চেষ্টা করছি নতুন একটা ভবন বরাদ্দের জন্য।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে পাঠদানের জন্য প্রথম প্রয়োজন মনোরম পরিবেশে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ-বিষয়ে কথা বলেছি, খুব তাড়াতাড়ি এখানে স্কুলের কাজ ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ