July 25, 2026, 6:38 pm
শিরনাম :
যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান কালীগঞ্জে বাল্য বিয়ের অপরাধে কনের পিতাকে ছয় মাসের কারাদন্ড বরিশাল জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

এক কলস পানির জন্য হাঁটতে হয় দুই কিলোমিটার

জিএম তারিকুল ইসলাম , কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় তীব্র সুপেয় পানির সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে মহারাজপুর ইউনিয়নে কার্যকর কোনো মিঠা পানির ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহারাজপুর ইউনিয়নে কিছু স্থানে ডিপ টিউবওয়েল থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় খাওয়ার পানির প্রধান উৎস পুকুর। এসব এলাকায় অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর। সদর ইউনিয়নের কিছু অংশেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন।

মহারাজপুর ইউনিয়নের তেমন কোনো মিঠা পানির টিউবওয়েল দেখানা গেলেও, মহারাজপুর ইউনিয়নে একাধিক মিঠা পানির পুকুর দেখা যায়। শিমলার আইট গ্রামে খেজুর ডেঙ্গা এলাকায় একটি মিঠা পানির পুকুর ঘিরে ছয় গ্রামের শত শত পরিবার নির্ভরশীল। শিমলার আইট , আটরা, গোবিন্দপুর, লোখা, দোশালিয়া ও জয়পুর গ্রামের নারী-পুরুষ প্রতিদিন বিকেল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় মিঠা পানির কোনো টিউবওয়েল নেই। শুধু একটি পুকুর আছে, সেটার ফিলটারও এখন প্রায় অচল। সেটাতেও খুব ধীরে পানি ওঠে। একটি কলস ভরতে পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় লাগে।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি ও সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম বলেন, “সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নেওয়া অনেক প্রকল্পই প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন”।

তিনি বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় টেকসই সমাধান হিসেবে পুকুর খনন করে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) স্থাপন কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। তবে এসব ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে”।

কয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে এবং অনেক ডিপ টিউবওয়েলেও লবণাক্ত পানি ওঠে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ট্যাংক, ডিপ টিউবওয়েল ও গভীর নলকূপ বিতরণ করছে। আশা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে”।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতীতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নে অনিয়ম ও সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। তীব্র গরমে লবণাক্ত ও দূষিত পানি পান করে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সামগ্রিকভাবে কাজ করা হবে”।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ