খুলনার, কয়রা উপজেলার, ০৫ নাং কয়রা গ্রাম। এলাকাটির সুন্দরবনের গা ঘেঁষে অবস্থিত। নদীর ওপারে বাঘের গর্জন, আর এপারে মানুষের কান্নার আওয়াজ।
পড়ন্ত বিকেলে সুন্দরবন–সংলগ্ন রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নজর যায় একজন বয়স্ক মহিলার দিকে। মুখে ক্লান্তি আর দীর্ঘ জীবনের ভার। পেট ভরা ক্ষুধা নিয়ে রাস্তার ধারে বসে ইফতারের সময় গুনছে।
কথায় কথায় জানা গেল, একসময় মা-বাবা সবি ছিল রাজিয়া খাতুনের। সময়ের ব্যবধানে একে একে মা-বাবা চলে গেল পৃথিবী ছেড়ে, সংসার সাজানো স্বপ্নটা ভেঙে গেল রাজিয়া খাতুনের। জীবনে নেমে এলো অসীম অভাব, একাকীত্ব ও দুশ্চিন্তা।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাজিয়া খাতুন বলেন, অভাবের ভিতর দিয়ে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি, নদীর চরে একটি কুঁড়ি ঘর ছিল সময়ের ব্যবধানে সেটাও চলে গেলো। এখন নিজের কবরের জায়গাটাও নাই আমার।
চোখের জল মুছতে মুছতে রাজিয়া খাতুন তার জীবনের কথা গুলো বলতে শুরু করেন।
সরকার বা কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়ালে রাজিয়া খাতুন শেষ বয়সে নিজের কবরের জায়গাটায় ঠিক করে মারতে পারতো।