এলিয়েন এবং ‘আননোন ফ্লাইং অবজেক্ট বা ইউএফও (অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু) সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের নির্দেশ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের ‘তীব্র আগ্রহ’ রয়েছে এবং এটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয়’।
ট্রাম্প বলেন, তিনি পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশের নির্দেশ দেবেন।
ই ঘোষণার পেছনে যুক্তি হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ভিনগ্রহবাসীর অস্তিত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। ওবামা বলেছিলেন, “ওরা বাস্তব, তবে আমি তাদের দেখিনি,” এবং এরিয়া ৫১-এ কোনো ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নেই যদি না কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিষয়টি লুকানো হয়। ওবামার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে মার্কিন রাজনীতি এবং বিজ্ঞান মহলে।
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ওবামার মন্তব্যকে ‘গোপন তথ্য ফাঁস করা’ হিসেবে সমালোচনা করেন। এলিয়েনদের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও তিনি কৌতুক করে বলেন, নথিপত্র গোপনীয়তার তালিকা থেকে বাদ দিলে হয়তো ওবামাকে আইনি ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
তবে ওবামার বক্তব্যে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য প্রকাশের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার প্রকাশিত এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক ব্রায়ান টাইলার কোহেন ওবামাকে জিজ্ঞেস করেন, এলিয়েন কি সত্যি?
জবাবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ওরা বাস্তব, কিন্তু আমি তাদের দেখিনি এবং তাদের এরিয়া ৫১–এ লুকিয়ে রাখা হয়নি।’
এরিয়া ৫১ হলো নেভাদায় অবস্থিত একটি গোপন বিমানঘাঁটি, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত সিআইএ আর্কাইভে বলা হয়, এটি মূলত গোপন গোয়েন্দা প্লেন পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল।
রোববার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ওবামা বলেন, তার প্রেসিডেন্সির সময় এলিয়েনদের পৃথিবীতে যোগাযোগের কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি। তবে মহাবিশ্বের বিশালতার কারণে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।