July 25, 2026, 7:30 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে- বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেছেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না রেখে আরও বৈচিত্রময় ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কাজ করছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের মাধ্যমে বড় ধরণের সংস্কার ও বিনিয়োগ শুরু হয়েছে।

২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ (বিশ্বব্যাংক) হোসনে ফেরদৌস সুমি, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. এম. এ. রাজ্জাক, ইউএনডিপির ডঃ এম মাসরুর রিয়াজ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মোঃ আব্দুর রহিম খান প্রমুখ।

শেখ বশির উদ্দিন আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই একক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে নন-পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অন্তত ২ দশমিক ৫ গুণ বাড়ানো প্রয়োজন। এই লক্ষ্য পূরণে চামড়া, জুতা, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে চারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পণ্য প্রোটোটাইপিংয়ের সুবিধা পাবেন।

এছাড়া প্লাস্টিক খাতের উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতি বছর ১হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি করবে। রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড’ এর মাধ্যমে ১১০টিরও বেশি কারখানাকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন এবং পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা সরাসরি ৫হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে আইসিটি ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নই হবে আগামী দিনে বাংলাদেশের শিল্প প্রকল্পটি কেবল একটি সাময়িক প্রকল্প নয়, বরং এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অংশীজনরা অংশ নেন। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার রপ্তানি বৃদ্ধিতে আরও সহজ শর্তে ঋণ এবং নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। যাতে বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের অবস্থান আরও সুসংহত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ