কারাবন্দী ইমরান খানের সাথে তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক দলের (পিটিআই) কাউকেই গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেখা করতে না দেওয়ায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যু নিয়ে গুজব রটে যায়। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার এক বিবৃতিতে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আদিয়ালা জেল থেকে তাঁকে (ইমরান খানকে) স্থানান্তর করা হবে এমন খবরের কোনো সত্যতা নেই।’ ইমরানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিবৃতিতে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছে, ইমরান খান ‘সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।’
পাকিস্তানের জিও টিভি’র সূত্র অনুযায়ী, ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে- এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি আছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রধান এবং দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
সম্প্রতি ইমরানের তিন বোন- নোরিন খান, আলীমা খান এবং ড. উজমা খান- অভিযোগ করেন যে, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো কারণ ছাড়াই তাদের ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা বলেছেন, পিটিআই সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তারা যখন জেলের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে সাক্ষাতের দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়।
পাঞ্জাব পুলিশের প্রধান উসমান আনোয়ারকে লেখা এক চিঠিতে ইমরানের বোনেরা এই সহিংসতাকে ‘বিনা উসকানিতে চালানো নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইমরান খানের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরব আছে তাঁর রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পিটিআই জানিয়েছে, সরকার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর এক প্রকার ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে।
এমনকি খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সাতবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
পিটিআই-এর অভিযোগ, ইমরান খানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এমনকি বই, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী এই পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলের রাজত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।