July 25, 2026, 9:00 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর, যা আছে অঙ্গীকারনামায়

প্রকাশক

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা। জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর অঙ্গীকারনামা। দলগুলোর নেতারা এতেও সই করেছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই সনদ বাস্তবায়নে মোট সাত দফা অঙ্গীকার করা হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া’– এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে অঙ্গীকারনামা শুরু হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর শেষে শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রথম অঙ্গীকার হিসেবে বলা হয়েছে, জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সেই লড়াইয়ের ঐতিহাসিক মোড়। হাজারো মানুষের জীবনদান ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, জনগণ যেহেতু রাষ্ট্রের মালিক, তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই সনদ গ্রহণ করছে। তাই সনদটি সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের বৈধতা বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা হবে না। বরং এর প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

 

চতুর্থ অঙ্গীকার হিসেবে বলা হয়, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য জনগণের ১৬ বছরের সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।

(আজ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ দফা সংশোধন করা হয়। এতে নতুন করে লেখা হয়, ‘শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব’)।

ষষ্ঠ দফায় সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ কাঠামো ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এসব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও প্রবিধি সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়ন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

শেষ দফায় উল্লেখ করা হয়, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করবে– কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ভিত্তি হলো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত। ওই সময়ে হাজার হাজার নাগরিক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দুঃশাসন, রাষ্ট্রীয় দমন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সামাজিক অন্যায়-বঞ্চনার প্রতিবাদে সড়কে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হন এবং ২০ হাজারের অধিক মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন। একপর্যায়ে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে পালিয়ে যান এবং ভারতে আশ্রয় নেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নিম্নোক্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি

ড. রেদোয়ান আহমেদ, মহাসচিব

ড. নেয়ামূল বশির, প্রেসিডিয়াম সদস্য

২। খেলাফত মজলিস

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, আমীর, খেলাফত মজলিস

ড. আহমদ আবদুল কাদের, মহাসচিব, খেলাফত মজলিস

৩। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

হাসনাত কাইয়ুম, প্রধান সমন্বয়ক

সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, মিডিয়া সমন্বয়ক

৪। আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি)

মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, চেয়ারম্যান

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাধারণ সম্পাদক

৫। নাগরিক ঐক্য

মাহমুদুর রহমান মান্না, সভাপতি

শহীদুল্লাহ কায়সার, সাধারণ সম্পাদক

৬। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)

ববি হাজ্জাজ, চেয়ারম্যান

মোমিনুল আমিন, মহাসচিব

৭। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহাসচিব

সালাহউদ্দিন আহমেদ, সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি

৮। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, সিনিয়র নায়েবে আমীর

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মহাসচিব

৯। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর

মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারী জেনারেল

১০। গণসংহতি আন্দোলন

জোনায়েদ সাকি, প্রধান সমন্বয়কারী

আবুল হাসান রুবেল, নির্বাহী সমন্বয়কারী

১১। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি

শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাধারণ সম্পাদক

মিসেস তানিয়া রব, সিনিয়র সহ-সভাপতি

১২। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)

নুরুল হক নুর, সভাপতি

মোঃ রাশেদ খাঁন, সাধারণ সম্পাদক

১৩। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

সাইফুল হক, সাধারণ সম্পাদক

বহ্নিশিখা জামালী, রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য

১৪। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সমন্বয়ক, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও চেয়ারম্যান, এনপিপি

বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা

১৫। ১২ দলীয় জোট

শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুখপাত্র, ১২ দলীয় জোট ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এলডিপি

১৬। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব

১৭। গণফোরাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ এডভোকেট, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

ডা. মো. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক

১৮। জাকের পাটি

আলহাজ্ব শহীদুল ইসলাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান

জহিরুল হাসান শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর জেলা ছাত্রফ্রন্ট

১৯। জাতীয় গণফ্রন্ট

আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক

মঞ্জুরুল আরেফিন লিটু বিশ্বাস, সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি

২০। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, সিনিয়র নায়েবে আমীর

মাওলানা মুসা বিন ইযহার, মহাসচিব

২১। বাংলাদেশ লেবার পার্টি

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চেয়্যারম্যান

খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

২২। ভাসানী জনশক্তি পার্টি

বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম (বাবলু), চেয়ারম্যান

ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ (সেলিম), মহাসচিব

২৩। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মহাসচিব

২৪। ইসলামী ঐক্যজোট

মাওলানা আব্দুল কাদের, চেয়ারম্যান

মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মহাসচিব

২৫। আমজনতার দল

কর্নেল মিয়া মশিউজ্জামান (অব:), সভাপতি

মোঃ তারেক রহমান, সাধারণ সম্পাদক

এছাড়াও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান এবং শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা শামসী আরা বেগম জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ