July 25, 2026, 4:03 pm
শিরনাম :
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ রাজপাড়া থানা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার শ্যামনগরে বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কালীগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

মোল্লাহাটে স্বাস্থ্যসেবার সংকট: জনবল ঘাটতি ও অনিয়মে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মে জর্জরিত এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

অল্প কিছুদিন আগেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ ৫০ হাসপাতালের তালিকায় থাকা এ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থান নেমে এসেছে ১৮২ নম্বরে।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও মঞ্জুরীকৃত পদে ব্যাপক শূন্যতার কারণে কার্যক্রম প্রায় অচল। জনবল ঘাটতির ফলে হাসপাতালের সেবা মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বিশেষত পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ৫টি পদের বিপরীতে একজন কর্মী থাকায় হাসপাতাল চত্বরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে রোগীরা নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

চিকিৎসক সংকটও ভয়াবহ। ২৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। জুনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট থাকার কথা ১১ জন, বাস্তবে একজনও নেই। ফলে সিজারসহ বিভিন্ন অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে। গাইনি ডাক্তার না থাকায় প্রসূতি রোগীরা সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১০ টাকায় সেবা নেওয়ার পরিবর্তে বাধ্য হচ্ছেন ২০–৪০ হাজার টাকা খরচে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে।

এ অবস্থাকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের কমিশনের আশায় বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি ল্যাবে টেস্ট করাতে গিয়েও রোগীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে, অথচ রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন দীর্ঘদিন নষ্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই ডাক্তার বা টেকনিশিয়ান। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তেন মং জানান, জনবল সংকটে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ কিংবা আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ এখন অত্যন্ত জরুরি।

সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত জনবল নিয়োগ, দালাল ও কমিশন বাণিজ্য বন্ধ, নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত ও অপারেশন থিয়েটার সচল না হলে এই হাসপাতাল পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়।

সাধারণ মানুষ মনে করেন — নাগরিক অধিকার হিসেবে সরকারি হাসপাতালে সুলভ মূল্যে চিকিৎসা পাওয়া তাদের প্রাপ্য। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও অনিয়মে তারা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ