ঝালকাঠির রাজাপুরে আওয়ামী লীগের নেতা দুই ভাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রুহানা আক্তার নামের ভুক্তভোগী এক নারী। রুহানা আক্তার উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর এলাকার মৃত হাচেন শরিফ এর মেয়ে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে রুহানা অভিযোগ করে বলেন, ২০২০ সাল থেকে আমার আত্নীয় অহিদুল ইসলাম শরিফ ও তার দুই ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩২) মোঃ সফিকুল ইসলামের সাথে জমি জমা নিয়া বিরোধ চলে আসছে। অহিদুল ইসলাম শরিফ কিছুদিন আগে মৃত্যুবরণ করলে তার ছেলেরা আরও উগ্র হয়ে আমাদের প্রায়ই হামলা চালায়। তারা ২০২১ সালে আমাদের প্রায় ১২ শতাংশ জমি (সুপারি বাগান) জোরপূর্বক দখলে নিয়ে যায়। আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস ভাড়া দেয়া কাঠের দোকান ঘর মেরামত করতে গেলে একাধিকবার মিস্ত্র সহ আমাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। দোকান ঘর গুলো মেরামতের অভাবে এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোর রাত অনুমান সাড়ে ৪ টার সময় বিবাদীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে আমাদের ভোগ দখলীয় জমিতে জোর পূর্বক ঘর উত্তোলন করে। বাঁধা দিতে গেলে রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম শরিফ,তাদের পরিবারের সদস্য’রা সহ ভাড়াটিয়া প্রায় ৩০ জনের একটি দল আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালমন্দ করে আমাকে সহ আমার বোনের ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ মিজানুর রহমান (১৫), তার জমজ ভাই মোঃ মফিজুর রহমান (১৫), হালিমা বেগম (৫০),আমার ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ ফাহিম (১৬)’ কে লাঠি সোটা দিয়া পিটিয়ে আহত করে এবং আমার ছেলে ফাহিম ও আমার বোনের দুই ছেলেকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টার করে। রফিকুল ইসলাম শরিফ গালুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য এবং তার সফিকুল ইসলাম গালুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। তারা এখন স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাদের সাথে আঁতাত করে তাদের ক্ষমতায় আমাদের মারধর করে ভিটা বাড়ী থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগ অস্বিকার করে রফিকুল ইসলাম জানায়, আমরা যেখানে ঘর উত্তোলন করেছি সেটা আমার দাদা’র সম্পতি। এই সম্পত্তি নিয়ে কোনো মামলা চলমান নেই এবং আমরা কাউকে মারধর করিনি। রুহানা আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানায়, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।