রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে নুরুল হক মোল্লা ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও কবর থেকে মরদেহ উঠিয়ে পোড়ানো এবং এতে বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় নিহত ভক্ত রাসেল হত্যা মামলায় সম্প্রতি ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরআগে দরবারে হামলার সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক মামলায় আরও ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড় ঠাকুরকান্দি এলাকার মাওলানা বাহাউদ্দিনের ছেলে আব্দুল লাতিফ (৩৫) ও রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার আলম চৌধুরীপাড়া এলাকার বিল্লাল মন্ডলের ছেলে অভি মন্ডল রঞ্জু (২৯)।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রাসেলের বাবা মো. আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ রয়েছে আসামীরা নিহত রাসেল মোল্লাকে এলোপাথারি পিটিয়ে হত্যা করেছে।
জানা গেছে, নিহত রাসেল মোল্লা প্রয়াত নুরাল পাগলার একজন অনুগত ভক্ত ছিলেন। গত শুক্রবার দরবারে হামলার ঘটনায় বাদা দেওয়ায় রাসেলও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। এঘটনায় ভক্ত রাসেল মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে ফের হামলার শিকার হন তিনি। সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এরআগে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মো. সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে সাড়ে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি আরও একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামকলায় ইতোমধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব জানান, “রাসেলের বাবার দায়ের করা মামলায় নতুন করে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরআগে পুলিশের আএ বাধা প্রদান ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটিনায় দায়ের করা পৃথক একটি মামলায় ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক ২ মামলায় এখনো পর্যন্ত মোট ১৮ জন গ্রেফতার হলো। পূর্বের মামলার অনেক আসামিকেই নতুন মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হবে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”