ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি গ্রীষ্ম থেকেই রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকান ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি।
এফটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে ড্রোনের গতিপথ, উচ্চতা এবং সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। অন্তত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এসব হামলার পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘কিয়েভ লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করে, আর তখন ওয়াশিংটন তাদের দুর্বলতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে।’ তবে অন্য কয়েকটি সূত্র এফটিকে জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতেও সহায়তা করে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্থাপনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ক্রেমলিনের কাছ থেকে কোনো ছাড় আদায় করতে পারেনি।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি মন্তব্য কিয়েভের প্রতি তার আগের শীতল মনোভাব থেকে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘ইউক্রেন রাশিয়ার কাছ থেকে তার সমস্ত ভূখণ্ড ফিরে পেতে পারে এবং এমনকি আরও এগিয়ে যেতে পারে।’
এফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদের ওপর হামলার জন্য গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের এই প্রক্রিয়াটি জুলাই মাসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যকার একটি ফোনালাপের পর গতি পায়। ওই আলোচনায় ট্রাম্প ক্রেমলিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে ‘রাশিয়াকে ব্যথা অনুভব করানোর’ কৌশলের প্রতি তার সমর্থন জানান।
এরপর আগস্ট মাস থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনা এবং পাইপলাইনে ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শোধনাগার এসব হামলার শিকার হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ড্রোন হামলার পর রাশিয়া অন্তত চারটি প্রধান শোধনাগারের কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
অক্টোবরেও কয়েকটি বড় আকারের হামলা চালানো হয়। এসব হামলার ফলে রাশিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর প্রভাবে সেপ্টেম্বরে দেশটিতে পেট্রোলের খুচরা মূল্য ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা ২০১৮ সালের পর এক মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়া জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে এবং বেলারুশ থেকে আমদানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।