July 25, 2026, 5:53 pm
শিরনাম :
কালীগঞ্জে বাল্য বিয়ের অপরাধে কনের পিতাকে ছয় মাসের কারাদন্ড বরিশাল জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন মাদার নদীর বাঁশের স্যাকোটি ব্রীজ করার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কবিরহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ

সিলগালা ক্লিনিকে অপারেশন করিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রোগী

তরফদার রবিউল ইসলাম

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সিলগালা থাকা সত্ত্বেও মিম সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবৈধভাবে সিজার অপারেশন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মারুফা নাসরিন। বর্তমানে অপারেশনে গুরুতর আহত রোগী মুর্শিদা বেগম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মুর্শিদাকে খুলনা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু দালালের মাধ্যমে ডা. মারুফা তাকে নিয়ে সিলগালা করা মিম সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজার অপারেশন করেন। অপারেশনের একপর্যায়ে রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান ওই চিকিৎসক।

বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, চিতলমারী মিম সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ক্লিনিক দীর্ঘদিন যাবৎ সিলগালা করে রাখা হয়েছে। সেখানে কোনো চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি নেই, অপারেশন তো দূরের কথা। কিন্তু সরকারি দেওয়া সিলগালা ভেঙে অবৈধভাবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিম ক্লিনিকে প্রতিদিনই রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচার চলছে।

রোগী মুর্শিদা বেগমের স্বামী রাজ্জাক শেখ বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমার স্ত্রীকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডাক্তার দেখানোর জন্য আনলে, চিতলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন কিন্তু এ সময় হাসপাতালে কর্মরত ডা. মারুফা আমাকে বলেন, আমি এই রোগীর সিজার করতে পারব আপনারা রোগীকে মিম ক্লিনিকে ভর্তি করেন এবং মিম ক্লিনিকে কম খরচে অপারেশন করে দেব। ডাক্তার মারুফুল আশ্বাসে আমার স্ত্রীকে মিম ক্লিনিকে নিয়ে যাই এবং ভর্তি করি। ভর্তির কিছু সময় পরই অপারেশনের জন্য মিম ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায় আমার স্ত্রীকে। এর কিছু সময় পরই অপারেশন থিয়েটার থেকে নার্স বেড়িয়ে আমাকে ভেতরে ডাকেন। অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার মারুফা আমাকে বলেন আপনার রোগীকে খুলনা নিয়ে যেতে হবে এ অপারেশন এখানে সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীকে কাটাছেঁড়া অবস্থায় খুলনা গাজী মেডিকেলে রেফার করেন ডাক্তার মারুফা। গাজী মেডিকেলে নেওয়ার পরে সেখানে কর্মরত চিকিৎসক আমার স্ত্রীকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে রাজি হননি- সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আমি কোনো উপায় না পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আমার স্ত্রীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং সেখানে ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরে ভর্তি করি এবং তিন ঘণ্টা অপারেশনের পরে আমার স্ত্রীকে আইসিইউতে পাঠায়। আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

মিম সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বর্তমানে অন্য রোগীও ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গেছে। নুর ইসলাম নামে এক রোগী বলেন, আমি আতাইকাঠির মানুষ। এই ক্লিনিকে অপারেশন করিয়েছি, এখনো ভর্তি আছি।

আরেক রোগী মাসুম শেখ বলেন, আমার স্ত্রী এপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত তাই এই মিম ক্লিনিকে অপারেশন করাতে এনেছি। সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন দিলে ডা. মারুফা নাসরিন প্রথমে ফোন কেটে দেন, পরে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয় ডা. মারুফা নাসরিনের ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দিলে, তিনি এ বিষয় কোনো কথা বলতে রাজি না বলে ফোন কেটে দেন।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, মঙ্গলবার মিম সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমি সদ্য যোগদান করেছি, তবে ক্লিনিকে ভর্তি রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিচ্ছি। সিলগালা থাকা অবস্থায় ক্লিনিক চালানো আইনত অপরাধ। এই মিম সারজিকাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সিলগালা ক্লিনিকে কীভাবে মাসের পর মাস অবৈধভাবে অপারেশন চলছে? এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক কীভাবে সেখানে গিয়ে অস্ত্রোপচার করতে পারেন?

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ