যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হঠাৎ করেই ভার্জিনিয়ায় এক বিরল বৈঠকে অংশ নিতে তলব করেছেন। আগামী সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে বৈঠকের খবর প্রকাশের পর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল তা নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা আলোচ্যসূচি এখনো পরিষ্কার নয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৮০০ জেনারেল ও অ্যাডমিরাল রয়েছেন, যাদের অনেকে হাজার হাজার সেনা, এমনকি স্পর্শকাতর বিদেশি ঘাঁটিরও দায়িত্বে রয়েছেন। এ ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সময়সূচি সাধারণত অনেক আগেই নির্ধারিত থাকে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র পারনেল সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আগামী সপ্তাহের শুরুতেই শীর্ষ সামরিক নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আমি এটা পছন্দ করি। দারুণ একটা সিদ্ধান্ত। জেনারেল এবং অ্যাডমিরালদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুক—এটাই চাই।
আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রায় ৮০০ জেনারেল ও অ্যাডমিরাল রয়েছেন, যাদের অনেকেই সংবেদনশীল বিদেশি ঘাঁটিতে হাজার হাজার সেনার দায়িত্বে আছেন। সাধারণত এসব কর্মকর্তাদের সময়সূচি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।
একজন সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন সবাই তাদের সময়সূচি বদলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ভাবছেন তাদের সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক কি না।’ মুখপাত্র পারনেল শুধু বলেছেন যে, ‘আগামী সপ্তাহের শুরুতেই যুদ্ধমন্ত্রী তার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন।’
হোয়াইট হাউসে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠককে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বলেন, ‘আমি এটা ভালোবাসি। আমার কাছে দারুণ মনে হচ্ছে। জেনারেল আর অ্যাডমিরালদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা ভালো।’ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ট্রাম্প সেটিকে গুরুত্ব দিতে চাননি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই সমালোচনাকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব জেনারেল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়ে প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করেন, তাদের মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাটা অস্বাভাবিক নয়। সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, সেটাই বরং অদ্ভুত।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প এবং হেগসেথ প্রতিরক্ষা দপ্তরে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে যৌথবাহিনী প্রধান জেনারেল সিকিউ ব্রাউনসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন। মে মাসে ট্রাম্প চার-তারকা জেনারেলের সংখ্যা ২০ শতাংশ এবং পুরো সেনাবাহিনীতে জেনারেল ও ফ্ল্যাগ অফিসারের সংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বহুত্ববাদ বা বৈচিত্র্য বিষয়ক উদ্যোগও বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সেনাবাহিনীকে এখন ‘প্রাণঘাতী শক্তি বৃদ্ধি’ এবং ‘যোদ্ধা মনোভাব পুনরুদ্ধারে’ মনোযোগী হতে হবে। চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্দেশে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা যুদ্ধ দপ্তর হিসেবে উল্লেখ করার নীতি ঘোষণা করেন, যা ১৯৪৯ সালের আগে পর্যন্ত এই নামেই পরিচিত ছিল।
সূত্র: রয়টার্স