ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ
বাগেরহাটের ফকিরহাটে আমন ধানের ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ ও শনাক্ত করতে মাঠে মাঠে ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলার সব ইউনিয়নের সব ব্লকে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পোকা দমনে আলোক ফাঁদের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ‘পার্চিং’ পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন মাঠে গাছের ডাল, বাঁশের আগা ও কঞ্চি পুঁতে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলায় পোকার প্রাদুর্ভাব কমছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
বাহিরদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি এক একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এবার ধান রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতির কারণে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব কমেছে। এতে বালাইনাশক ওষুধের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচও কমেছে।
নলধা ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে জমিতে আলোক ফাঁদ ও গাছের ডাল পুঁতে দেওয়ার পর ক্ষতিকর পোকামাকড় কমেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফকিরহাটে উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-১০৩, ব্রি-৯৫, ব্রি-৯৩ ও ব্রি-৮৭ জাত রয়েছে। এ বছর উপজেলার ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আলোক ফাঁদের মাধ্যমে ক্ষেতে থাকা পোকা শনাক্ত করা হয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।